Scroll to top
© 2020, Norebro theme by Colabrio
bn en
ম্যাস্টাইটিস ম্যাস্টাইটিস শব্দটি হল ওলানের গ্ল্যান্ডুলার টিস্যুতে প্যাথোলজিকাল পরিবর্তন যা চিহ্নিত করা হয় দুধ এর বাহ্যিক, রাসায়নিক এবং মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরিবর্তনের মাধ্যেমে। প্রতি বছর প্রধান দুধ উৎপাদনকারি দেশগুলোতে ১৫ % থেকে ২০% গরু ক্লিনিক্যাল ম্যাস্টাইটিস রোগে সংক্রমিত হয়। কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধারনা করা হয়, ৫০% গরুর চতুর্থাংশ ওলান সংক্রমিত।
ম্যাস্টাইটিস এর প্রকারভেদ 
ম্যাস্টাইটিস এর প্রকারভেদ ম্যাস্টাইটিস এর লক্ষণ বা সংজ্ঞা
গ্রেড ১(হালকা) শুধু মাত্র দুধের পরিবর্তন (রং: হালকা ধূসর/হলুদ /লাল এবংঘনত্বঃ জমাট বাঁধা/ ঘনীভূত)
গ্রেড ২ (মাঝারি) দুধের পরিবর্তন  (রং / ঘনত্ব) এবং  ওলানের পরিবর্তন (তাপ, প্রদাহ, ব্যথা)
গ্রেড ৩ (তীব্র) দুধের পরিবর্তন  ( রং / ঘনত্ব) , ওলানের পরিবর্তন (তাপ, প্রদাহ, ব্যথা), গরু (অসুস্থ গরু) এবং বাটের চামড়া খসেপড়া
ম্যাস্টাইটিস এর জন্য দায়ী অণুজীবগুলো: গাভীর ওলানের উপর এবং ভিতরে প্রচুর পরিমাণে অণুজীব রয়েছে। গাভীর ওলানের গ্রন্থিগুলির সাথে সংযুক্ত এমন ১৩৭ টি জীবাণুর প্রজাতিএবং উপ-প্রজাতি সনাক্ত করা হয়েছে। এদের বেশির ভাগই স্বাভাবিক উদ্ভিদের অংশ এবং কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বাকিরা ম্যাস্টাইটিস এর জন্য দায়ী না। অপরদিকে তারা প্যাথোজেনিক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে ওলান কে রক্ষা করতে পারে। তবে বেশ কয়েকটি অন্যান্য অণুজীব ওলানের গ্রন্থিগুলিতে সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে । তাদের মধ্যে সংক্রামক অণুজীব এবং পরিবেশগত অণুজীব আছে। সংক্রামক অণুজীবের প্রধান উৎস হল সংক্রমিত গাভী, যেগুলো বেঁচে থাকে এবং বংশবৃদ্ধি করে ত্বকের উপর এবং বাঁটের ক্ষতস্থান এর উপর। এদের মধ্যে রয়েছে স্ট্রেপ্টোকোক্কাস অ্যাগ্যাল্যাকসিয়া, স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস এবং স্ট্রেপ্টোকোক্কাস ডিসগল্যাক্সিয়া । পরিবেশগত অণুজীবেরা (এশচেরিচিয়া কোলাই এবং অন্যান্য কোলিফর্মস, স্ট্রেপ্টোকোক্কাস ইউবেরিস ) বাঁটের উপর থাকে না। বরং, গোবর দ্বারা দূষিত মাটি,বিছানাপত্র এবং পানি এদের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

ওলান সংক্রমণে অন্তর্ভূক্ত প্রধান অনুজীবগুলো,তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং প্রতিরোধঃ
প্রজাতি প্রধান উৎস বেঁচে থাকার শর্তসমূহ বংশবৃদ্ধির উৎপাদকসমূহ উপসর্গসমূহ প্রতিরোধী চিকিৎসা
স্ট্রেপ্টোকোক্কাস অ্যাগ্যাল্যাকসিয়া (Streptococcus agalactiae) সংক্রমিত গাভী শুধুমাত্র সংক্রমিত কোয়ার্টার এবং ওলান ওলানগুলো পরিষ্কারের জন্য একই নেকড়ার ব্যবহার
  • প্রায় ২৪ ঘন্টা ধরে দুধ জ্বর
  • দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া
  • সম্মূখ ফালের দুধে পরিবর্তনশীল ঘনীভূত দ্রব্য থাকা (রক্ত দাগযুক্ত ছানা)
  • ওলান এবং বাঁটের নাচের অংশ ফোলা
দুধ দোহনের পর ওলান ধৌতকরণ ,সংক্রমিত গাভী বাদ দেওয়া দ্বারা ৫০% সমস্যা কমায়
স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস (Staphylococcus aureus) সংক্রমিত গাভী অস্বাভাবিক ওলানের ও বাঁটের  উপর , দুধ দোহনের সময় হাত ও নেকড়ার মাধ্যমে
  • স্তর এবং ঘনীভূত দ্রব্য সম্পন্ন অস্বাভাবিক রঙের দুধ
  • পুজযুক্ত গর্ত তৈরী এবং ওলানের ভিতর পর্যন্ত সংক্রমণ ওলানের উপরের অংশে প্রদাহের সৃষ্টি করে
  • ঠান্ডা এবং জোড়াতালি দেয়া নীল/বেগুনি রঙের বিবর্ণ ওলান
  • ক্রনিক অবস্থায়,শক্ত ওলান, জলীয় রসক্ষরণ, ওলান চরমভাবে আকারে ছোট হওয়া
  • মধ্যম ধারণ,ঝুরা কোষ তৈরি হয়,
  • দুধ স্বাভাবিক থেকে গরম হয়
দুধ দোহনের পর ওলান ধৌতকরণ ,সংক্রমিত গাভী বাদ দেওয়া দ্বারা ৫০% সমস্যা কমায়
স্ট্রেপ্টোকোক্কাস ডিসগল্যাক্সিয়া (Streptococcus dysgalactiae) সংক্রমিত গাভী সংক্রমিত কোয়ার্টার,আঘাত
  • দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া
  • সম্মূখ ফালের দুধে পরিবর্তনশীল ঘনীভূত দ্রব্য থাকা (রক্ত দাগযুক্ত ছানা)
  • ওলান এবং বাঁটের নাচের অংশ ফোলা
  • গুরুতর অবস্থায় অধিক জ্বর।
দুধ দোহনের পর ওলান ধৌতকরণ ,সংক্রমিত গাভী বাদ দেওয়া দ্বারা ৫০% সমস্যা কমায়
স্ট্রেপ্টোকোক্কাস ইউবেরিস (Streptococcus uberis) দূষিত পরিবেশ গাভীর চামড়ায় মুখে এবং মাটিতে ওলান ধোয়াতে অবহেলা করা,অপর্যাপ্তভাবে শুকানো,বিছানাপত্রের অভাব,কর্দমাক্ত উঠান
  • দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া
  • সম্মূখ ফালের দুধে পরিবর্তনশীল ঘনীভূত দ্রব্য থাকা (রক্ত দাগযুক্ত ছানা)
  • ওলান এবং বাঁটের নাচের অংশ ফোলা
  • গুরুতর অবস্থায় অধিক জ্বর।
  • বেশিরভাগ আক্রান্ত শুষ্ক গাভী এবং বকনা-বাছুর
শুধুমাত্র বাঁট ধোয়া,প্রত্যেক গাভীর জন্য নিষ্পত্তিযুক্ত তোয়ালে দিয়ে ভালভাবে শুকানো, পর্যাপ্ত বিছানাপত্র সরবরাহ করা
এশচেরিচিয়া কোলাই (Escherischia coli) দূষিত পরিবেশ মাটিতে, বিছানাপত্রে(কাঠের গুড়া এবং খেউরি), গোবর ,পানি নোংরা প্রসবের গোশালা,বিছানাপত্রের অভাব,অপর্যাপ্তভাবে ওলান ধোয়া
  • অস্বাভাবিক দুধ ,স্বাদহীন এবং রক্তযুক্ত এবং দুধ উৎপাদনের অবনতি
  • অত্যধিক ফোলা ওলান
  • হালকা হলুদ রসক্ষরণের সাথে তুষের মত দানা
  • ডায়রিয়া এবং জলবিয়োজনের সাথে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর বেশি জ্বর
শুধুমাত্র বাঁট ধোয়া,প্রত্যেক গাভীর জন্য নিষ্পত্তিযুক্ত তোয়ালে দিয়ে ভালভাবে শুকানো, পর্যাপ্ত বিছানাপত্র সরবরাহ করা
Corynebacterium pyrogenes নির্দিষ্ট পোকামাকড় সেঁতসেঁতে উপত্যকা, গাছপালায় ঢাকা জায়গা
  • অনুজীবের বিষ দ্বারা সমগ্র দেহে সুস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া তৈরি
  • প্রায় সময় একের অধিক কোয়ার্টার আক্রান্ত হয়
সিউডোমোনাস পানির  উৎস, দূষিত টিট ডিপস এবং সংক্রমিত  ঔষুধ এবং ইনফিউশনের  সরঞ্জাম, নষ্ট  খাদ্য, মাটি এবং গোবর প্রাণীর ত্বক সরাসরি যোগাযোগ এবং দূষিত পানির ব্যবহার
  • লক্ষণীয়ভাবে ওলান ফুলে যাওয়া ।
  • উচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ১০৭  ডিগ্রি ফারেনহাইট
  • পানির মত দুধে ফ্লেক্স বা ক্লট বা রক্ত ​​থাকে ।
সংক্রামিত গাভীকে কাল বা বিচ্ছিন্ন করতে হবে সংক্রমন ছড়ানো রোধ করতে । পানি পরীক্ষা করা  উচিত  সিউডোমোনাসের উপস্থিতি জানার জন্য ।
মাইকোপ্লাজমা সংক্রমিত প্রাণী, শ্বাসতন্ত্রের ট্র্যাক্ট এবং ইউরোজেনিটাল  ট্র্যাক্ট । সংক্রমিত কোয়ার্টার দুধ দোহনের সময় গরু থেকে গরু তে , অনুপযুক্ত ভাবে বাঁটের জিবানুমুক্তকরণ , দূষিত ইন্ট্রাম্যামারির চিকিৎসা , দোহকের হাত , এবং বায়ুর মাধ্যমে ছড়ায় ।
  • ম্যাসটাইটিস একের অধিক কোয়ার্টারে পাওয়া যায়  মাঝে মাঝে সব কোয়ার্টারে ।
  • দুধ উৎপাদনের সময় দুধ পতনের তীব্রতা অ্যাগাল্যাকসিয়ার কারন ।
  • পানির মত দুধে  পুরু  কোলোস্ট্রাম এর মত উপাদানের সাথে কিছু  ক্লট ( স্যান্ডি বা ফ্লেকি অধঃক্ষেপণ  পানি বা সেরাসের মত দ্রব্যে ।
একটি  আবদ্ধ পশুপাল  বজায়  রাখা , একটি পরিচিত মাইকোপ্লাজমা-মুক্ত পাল থেকে প্রতিস্থাপন  কেনা, বাল্ক ট্যাংক থেকে নমুনা নিয়ে সময়মত কালচার করা।
ম্যাস্টাইটিস ঘটাতে সাহায্যকারি কারণ সমূহঃ
ম্যাস্টাইটিস হওয়ার পিছনে অনেক ধরণের কারণ জড়িত বলেই রোগটি একটি জটিল সমস্যা। গবেষকরা অনুমান করেছেন যে , ২৫% পরিবেশগত কারণ, ২০% জেনেটিক কারণ এবং ৫০% পশুপানে অসতর্কতা ওলান সংক্রমণের সংবেদনশীলতার জন্য দায়ী।
পরিবেশগত কারণ 
আবহাওয়া ও জলবায়ু
ম্যাস্টাইটিসের সূত্রপাতের উপর আবহাওয়া এবং জলবায়ুর সরাসরি বা পরোক্ষ প্রভাব থাকতে পারে । গাভীর ম্যাস্টাইটিস হওয়ার পূর্বশর্ত হল তীব্র ঠান্ডা, খরা, অত্যধিক আর্দ্রতা বা তাপের প্রভাব। গ্রীষ্ম এবং বর্ষা মৌসুমে, চরম তাপমাত্রায় ম্যাস্টাইটিস হওয়ার মাত্রা বেড়ে যায়। যখন তাপ এবং আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায় তখন ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিবেশে প্যাথোজেন ও প্রচুর পরিমানে বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে, ঠান্ডা মাস গুলিতে যখন তাপমাত্রা ২১° সেলসিয়াসে নিচে থাকে তখন কলিফর্ম ম্যাস্টাইটিসের হার বেশি থাকে। আবার প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাতের কারণে কর্দমাক্ত পরিস্থিতিতে অণুজীবগুলো সংখ্যা বৃদ্ধি করবে এবং এভাবে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। চরম তাপমাত্রা সোমাটিক সেল ( সাধারণ দেহকোষ) গণনাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
বাসস্থান
ওলানে আঘাতের উচ্চ ঝুঁকি এবং অত্যন্ত ঘনীভূত মাইক্রোঅর্গানিসমস বা অণুজীব এর কারনে  গৃহমধ্যস্থ  বাসস্থান ব্যবস্থায় ম্যাস্টাইটিস এর হার বেশি । অস্ট্রেলিয়ায়, গরুদের ঘরের ভিতর ঢুকানো হয় শুধুমাত্র দুধ দোহনের জন্য, তাই সেখানে কলিফরমস দ্বারা সৃষ্ট ম্যাস্টাইটিস বিরল। যদিও প্রায়ই বিতর্কিত হয়, তবে দেখা যায় যেআবদ্ধ বাসস্থান ব্যবস্থার চেয়ে খোলা বাসস্থান ব্যবস্থায় ম্যাস্টাইটিস সাধারনত কম হয়, কারণ খোলা বাসস্থান ব্যবস্থায় গরুরা খুশি থাকে, নিজেদেরকে আহত করার বা ময়লা বিছানার সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ কম থাকে। সার্বিয়ান গবেষণায় দেখা যায়, খোলা বাসস্থান ব্যবস্থায় রাখা গরুর পালের সাবক্লিনিক্যাল ম্যাস্টাইটিস ২৭% এবং ক্লিনিক্যাল ম্যাস্টাইটিসের ৪২% কম  ছিল বেঁধে রাখা গরুর পালের তুলনায়। আবদ্ধ বাসস্থানে, কিছু ধরণের গোশালায়ে ম্যাস্টাইটিসের সম্ভাবনা বেশি। দীর্ঘ এবং বৃহত্তর গোশালায়, গরু যত বেশি চলাফেরা করতে পারে, তত বেশি আঘাতের সংখ্যা এবং ম্যাস্টাইটিস এর ঘটনা হ্রাস পায়। কিন্তু প্রধান সমস্যা হচ্ছে গাভীর লম্বালম্বি ভাবে নড়াচড়া বাধাপ্রাপ্ত হয়, বিশেষ করে উঠাবসার সময়। প্রতিবেশী প্রাণীর আকস্মিক পদক্ষেপ এবং ট্রাম্পেড বাঁট থেকে উদ্ভূত ম্যাস্টাইটিসের ঘটনা গোশালার মধ্যকার দেওয়াল দ্বারা হ্রাস পায় ।
বিছানাপত্র
ম্যাস্টাইটিস হওয়ার ক্ষেত্রে আবদ্ধ বা খোলা  যে কোনো বাসস্থান ব্যবস্থায় বিছানাপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ১৪ ঘণ্টা সময় গরুরা তাদের বিছানায় কাটায়।  এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, যেখানে গাভীদের বিছানা সহ এবং বিছানা ছাড়া রাখা হয়েছিল, যেখানে কোন বিছানা ছিল না ম্যাস্টাইটিস সংক্রমণের মাত্রা সেখানে দ্বিগুণ। খোলা বাসস্থান ব্যবস্থায় অপর্যাপ্ত বিছানাপত্র,সংক্রামক ম্যাস্টাইটিসের গুরুতর পরিস্থিতি হয়ে উঠতে পারে।
  বেডিংয়ের উপকরণঃ 
বেডিংয়ের দুটি মৌলিক বিভাগ আছে- জৈব এবং অজৈব। প্রতিটি বিভাগে রয়েছে কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা ।
জৈব বেডিংয়ের উপকরণঃ
জৈব বেডিংয়ের উপকরণ খড়, শুকানো ঘাস , কাঠের মিহি গুঁড়ো, কাঠের  শেভিং, ফসলের অবশিষ্টাংশ,  কাটা কাগজ, এবং মিশ্র সার বা শুকনো সার দ্বারা গঠিত । জৈব বেডিংয়ের   উপকরণ  আর্দ্রতা শোষণ করে, গোবর সামলানোর ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সহজেই উপলব্ধ।  এটির একটি প্রধান অসুবিধা হচ্ছে এর উপকরণ  তাজা মাটি এবং পানি (প্রস্রাব) দ্বারা মিশে গেলে তারা পরিবেশগত  ম্যাস্টাইটিসের রোগ জীবাণুর  দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। বেডিংয়ের  উপকরণের সাথে যুক্ত প্রধান রোগ জীবাণু হচ্ছে  পরিবেশগত স্ট্রেপ্টোকোক্কি (স্ট্রেপ্টোকোক্কাস উবেরিস সহ) এবং কোলিফর্ম যেমন এশচেরিকিয়া কোলাই এবং ক্লেবসিয়েল্লা  স্পেসিস। উপকরণ হিসেবে  কাগজের মণ্ডের বর্জ্য  প্রায়ই ভেজা অবস্থায় পাওয়া যায় যা  ব্যাকটেরিয়ার  বৃদ্ধিকে  সমর্থন করে  । গাছের বাকল সমৃদ্ধ  সবুজ, শক্ত কাঠের  মিহি গুঁড়ো উপকরণ  হিসেবে  ব্যবহার করলে ক্লেবসিয়েল্লা ম্যাস্টাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়  এবং খড় দিয়ে তৈরি বেডিং প্রায়ই স্ট্রেপ্টোকোক্কাস উবেরিস সংক্রমণের ফলে হওয়া ম্যাস্টাইটিসের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে জড়িত।
বেডিংয়ে কণার আকার  রোগ জীবাণু সংখ্যার ঘনত্বকে প্রভাবিত করে । রোগ জীবাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে কণার আকার হ্রাসের সাথে সাথে। বেডিং উপকরণ যেমন আসবাবপত্র নির্মাণের স্থান থেকে আনা  খুব মিহি কাঠের গুঁড়ো তা ব্যাবহারের পূর্বে প্রায় জীবাণুমুক্ত হতে পারে  কিন্তু তবুও  ছোট কণার আকৃতি  ব্যাকটেরিয়াকে খুব দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য  করে। সূক্ষ্ম কণা আকৃতির উপকরণের বাঁটের ত্বকে আচ্ছাদিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে  এবং যা বাঁটে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং তা ইন্ট্রাম্যামারির সংক্রমণের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করে । কাঠ পণ্য যেমন শেভিংস যার কণার আকৃতি বড় এবং তা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি মন্থর করতে সহায়তা করে ।
অজৈব বেডিং উপকরণঃ
অজৈব বেডিং উপকরণ বালি এবং চূর্ণ চুনাপাথর  দ্বারা গঠিত। অনেকেই বেডিং উপকরণ বালিকে স্বর্ণমান  হিসাবে  বিবেচনা করেন। এটি নিষ্ক্রিয় এবং ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি সহায়তা করে না। সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করলে  এটি বেডিং উপকরণ  হিসাবে খুব আরামদায়ক হবে । ব্যবহৃত  বালির বেডিংয়ে ব্যাকটেরিয়া গণনা প্রায়ই জৈব বেডিংয়ের উপকরণের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বালিতে পাওয়া কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া এবং পরিবেশগত স্ট্রেপ্টোকোক্কির সংখ্যা জৈব বেডিংয়ে  পাওয়া সংখ্যাগুলির চেয়ে প্রায় সর্বদা কম। ব্যাকটেরিয়াগত দৃষ্টিকোণ থেকে বালি একটি আদর্শ বেডিং উপকরণ ।
ধকল
ম্যাস্টাইটিসের সম্ভাবনা তখনই বেশি  যখন প্রাণীটি তার পরিবেশে ধকলে থাকে যা তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে । ধকল ওলানের অভ্যন্তরীণ কোষের অখণ্ডতা কে প্রভাবিত করে, যা ম্যাস্টাইটিসের অন্য একটি কারণ ।
ধকলের কিছু উৎস ঃ
  • প্রাণীর অতিরিক্ত ঘনত্ব যা মাইক্রোবিয়াল আদান প্রদান এবং প্রাণীদের মধ্যকার কার্য-সম্পর্ককে বাড়িয়ে দেয় ।
  • অনিয়মিত ব্যবস্থাপনা
  • কোলাহল
  • আকস্মিক ভোল্টেজ
মিল্কিং মেশিন
কৃষকদের দুধ দোহনের অভ্যাস এবং দুধ দোহনের  যন্ত্রের  ত্রুটি রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব কে সাহায্য করে জীবাণুমুক্ত গ্রন্থিগুলোতে প্রবেশে সাহায্য করে এবং ম্যাস্টাইটিস এর জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। যেসব খামারে দুধ দোহনের মেশিন নিযুক্ত সেখানে সর্বোত্তম শারীরবৃত্তীয় চাপ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ (অধিকাংশ মেশিনের জন্য ৫০ কেপিএ ), কারণ এই অতিরিক্ত চাপে বাঁটের ক্ষতি হতে পারে। ম্যাস্টাইটিস ঘটনার প্রতিরোধের জন্য অবশ্যই অপর্যাপ্ত ভ্যাকুয়াম রিজার্ভের কারণে চাপ হ্রাস এড়ানো উচিত। অপর্যাপ্ত ভ্যাকুয়াম স্তর, বাঁট এবং বাঁটের টিস্যুর ক্ষতি এবং অসম্পূর্ণ দুধ দোহানো এড়িয়ে চলতে যথাযথ মেশিন স্থাপনের পাশাপাশি  মেশিনের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। সম্পূর্ণ এবং উচ্চমানের দুধ দোহনের জন্য ভ্যাকুয়াম পাম্প দ্বারা তৈরি ভ্যাকুয়াম স্তর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পরীক্ষায় দেখা হয়েছে যে একটি  বাঁটে  ১০.৫- ১২.৫   ইঞ্চি ভ্যাকুয়াম স্তর প্রয়োগ করা হচ্ছে যার ফলে সর্বাধিক দুধ প্রবাহ দ্রুততম সময়ে সম্পূর্ণ হয় এবং দুধ পর্যাপ্ত পরিমানে পাওয়া যায় এবং বাঁটের উপর কোন চাপ পড়ে না। সম্পূর্ণ দুধ দোহনের পাশাপাশি বাঁটের যেকোন ক্ষতি এড়ানোর জন্য দুটি চেম্বার যুক্ত বাঁট কাপ একক চেম্বারযুক্ত  বাঁট কাপের তুলনায় ভাল। তবে, মেশিনে প্রবর্তিত পরিবর্তনগুলোর কারনে গরুর বাটের ছিদ্রেরপরিধি বৃদ্ধি হচ্ছে যার ফলে উভয় সংক্রামক ও পরিবেশগত ম্যাস্টাইটিসের জন্য দায়ী অণুজীবের ঝুঁকি বাড়ছে।
জেনেটিক কারণ
একেক প্রজাতির প্রাণীদের ম্যাস্টাইটিসের প্রতিসংবেদনশীলতার উপর বিভিন্ন জেনেটিক বৈশিষ্ট্য / কারণগুলির একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে (১২% থেকে ২0%)। জেনেটিক বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ, বাঁটের আকৃতি এবং গঠন, ওলানের  অবস্থান, বাঁট গুলোর মধ্যে আপেক্ষিক দূরত্ব, দুধ উৎপাদন এবং দুধের চর্বিযুক্ত উপাদান অন্তর্ভুক্ত। উচ্চ দুধ উৎপাদনের সাথে গড়ের তুলনায় উচ্চ চর্বিযুক্ত দুধ উৎপাদন ম্যাস্টাইটিসের প্রতি বেশি সংবেদনশীল বলে মনে করা হয়। ওলানের গঠন এবং বাঁটের আকৃতি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্য যা ম্যাস্টাইটিসের প্রতি সংবেদনশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। শেষ প্রান্ত উলটানো বাঁটের গরু গুলো থেকে সম্প্রসারিত বাঁটের গরু গুলো ম্যাস্টাইটিস সংক্রমণের ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকি পূর্ণ। বাঁট সংক্রমণে  বড় ওলান, পিছনের নিচু চতুর্থাংশ এবং বাঁটের  অবস্থান সংক্রামক এজেন্টকে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে । অসংখ্য বাঁট  প্যাথোজেনের অতিরিক্ত আধার  যা ম্যাস্টাইটিস প্রকাশের পথপ্রদর্শক ।
পুষ্টিগত কারণ
এই বিষয়টির উপর বিস্তর গবেষণা সত্ত্বেও, বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডলে খাদ্য ও ম্যাস্টাইটিস মধ্যে সম্পর্কগুলি এখনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। দুটি অনুশীলনের উপর দৃষ্টি রয়েছে যা ম্যাস্টাইটিসের ঝুঁকি বাড়ায় – খাদ্যের দ্রুতপরিবর্তন এবং অতিরিক্ত বা ভারসাম্যহীন খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান।
নাইট্রোজেন এবং প্রোটিন
ম্যাস্টাইটিস হওয়া এবং গরুর উচ্চ শক্তি বা প্রোটিনযুক্ত খাদ্যের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। তবে, রোগের ঘটনা প্রবাহ অনুযায়ী প্রোটিন নয় (উদাঃ ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া) এমন নাইট্রোজেনের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে প্রমাণ রয়েছে।
নন-প্রোটিন নাইট্রোজেন (এনপিএন) বিশেষ করে সাদা রক্তের কোষগুলিতে, বা লিউকোসাইটে অনমনীয়, যা ওলানকে  রক্ষা করে । ওলানের রক্তে ইউরিয়ার মাত্রা এবং ব্যাকটেরিয়া উপনিবেশকরণ মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক আছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য বরাদ্দকৃত ইউরিয়া সংক্রমণের সংবেদনশীলতা বাড়িয়েছে  এবং ১৬% এর বেশি সংক্রমণ বৃদ্ধি করেছে। রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনার উপর  প্রভাব স্পষ্ট হয় যখন ইউরিয়া দিনে ১৮০ গ্রামের বেশি দেয়া হয়।
কন্সেন্ট্রেট এবং এনার্জি
ওলানে প্রদাহ যুক্ত গরুতে কন্সেন্ট্রেটের পরিমাণ হ্রাসের পরামর্শ দেওয়া হয় । যখন গরুর রেশনে ৪০% এর জায়গায় ২৫ % কন্সেন্ট্রেট দেয়া হয়, তখন প্রথম দুগ্ধবতী অবস্থায় গরুগুলির ম্যাস্টাইটিসের ঘটনা ৩৬%  এর তুলনায় ৭% ছিল, অন্যান্য গরুগুলির জন্য ম্যাস্টাইটিসের ঘটনা ৩৭% তুলনায় ১৯% ছিল (একটিজার্মানগবেষণায় প্রাপ্ত)। উচ্চশক্তি সম্পন্ন একটি রেশনে প্রথম দুগ্ধ দানকারি গরু মধ্যে ম্যাস্টাইটিস হওয়ার প্রবণতা বাড়ায়, যখন এটি অন্য গরুতে বিপরীত প্রভাব ফেলে ।
ক্যালসিয়াম-ফসফরাস অনুপাত
বাছুরের জন্ম দেওয়ার সময় রেশনে অপর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস অনুপাতের কারনে দুধ জ্বর হয়। বাছুরের জন্মের কয়েক ঘন্টা পরে প্রাণীর রেশনে যখন ক্যালসিয়ামের অভাব হয় তখন কলিফর্ম ম্যাস্টাইটিসের বিকাশ ঘটবে। সাধারণত গরুর শুষ্ক সময়ে রেশনে অপর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ফসফরাস অনুপাত থেকে এই ক্যালসিয়ামের অভাব উৎপন্ন হয়।
সাইলেজ এবং খড়
খারাপ মানের সাইলেজে থাকে অত্যধিক প্রোটিন এবং শর্করা যা ওলান রক্ষায় সহায়তাকারী সাদা রক্তকোষ গুলিকে হত্যা করে  রোগ প্রতিরোধী সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়। সাইলেজ খাওয়ানো হয় তাদের তুলনায় যেসব গরুকে খড় এবং শস্য খাওয়ানো হয় তাদের বিভিন্ন প্যাথোজেনের প্রতি অধিক প্রতিরোধ ক্ষমতা হয়। সিউডোমোনাস এবং প্রোটিয়াস অনুজীবগুলো সাইলেজে উৎপাদিত উচ্চ তাপমাত্রাতেও বেঁচে থাকে। ছাতা ধরা খড় এবং মাইকোটক্সিন গুলিও সাদা রক্তের কোষ গুলিকে ক্ষতি করে এবং এভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে।
সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন ই
গবাদি পশুর খাদ্যে ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়াম  খুবই  গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধের মাধ্যমে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসাবে কাজ করে এবং গাভী গুলোর প্রসবের পর  নিউট্রোফিল ফাংশন বাড়ানোর পাশাপাশি নিউট্রোফিলের ফাগোসাইটিক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়। একটি পর্যাপ্ত মাত্রার সেলেনিয়াম গাভীকে ম্যাস্টাইটিসের প্রতিরোধে সাহায্য করে, সংক্রমণের তীব্রতা হ্রাস করতে এবং এর সময়সীমা কমিয়ে দিতে সাহায্য করে ।
ভিটামিন ই প্রায়ই সেলেনিয়াম দিয়ে সংযুক্তহয়, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসাবে কাজ করে । বেশ কয়েকটি তদন্তে দেখানো হয়েছে যে যাদের সেলেনিয়াম খাওয়ানো হয়নি তাদের থেকে সেলেনিয়াম খাওয়ানো গাভী গুলোর নিউট্রোফিলস ম্যাস্টাইটিস সৃষ্টিকারী মাইক্রোঅর্গানিসমস ধ্বংসে বেশী কার্যকর।
একমাত্র ভিটামিন ই  ১০০০ আইউ/ দিনের পরিপূরকটি সোমাটিক কোষের গণনাকে হ্রাস করে তবে ম্যাস্টাইটিসের ঘটনা নয়। সুতরাং বাছুর জন্মানোর সময় মিলিত সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন ই এর সম্পূরক সংক্রমণের প্রায় ৪০% হ্রাস করতে পারে, সংক্রমণের পুরো সময়কালের জন্য  ৬০% হ্রাস করতে পারে এবং ক্লিনিকাল ম্যাস্টাইটিসের জন্য ৩০% সংক্রমণ হ্রাস করতে পারে। E.coli  এর কারণে সাবক্লিনিকাল  ম্যাস্টাইটিসের ক্ষেত্রে সেলেনিয়ামের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। শুষ্ক গাভীর ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৩ মিগ্রা সেলেনিয়াম সরবরাহ করা উচিত, উৎপাদনশীল গরুর জন্য প্রতিদিন ৬ মিগ্রা এবং উভয় বিভাগের গরুর জন্য প্রতিদিন ১০০০ আইউ ভিটামিন ই প্রদান করা উচিত।
দ্রষ্টব্য: এটি উপকারী নয় বরং শুধুমাত্র সেলেনিয়াম এর  অতিমাত্রায় ব্যাবহার ক্ষতিকারক ( যা ভিটামিন ই ছাড়াই ) , কারন এটি বিষাক্ত হতে পারে । সেলেনিয়াম ১৬ মিগ্রা / দিনের ডোজ উচ্চ মাত্রায় ম্যাস্টাইটিসের হওয়ার কারনে পরিনত হয় যদি না একই সময়ে ভিটামিন ই সম্পূরক সরবরাহ করা হয় । ভিটামিন ই এর সাথে সম্পূরকতা গর্ভযুক্ত গাভী গুলোর চেয়ে শুষ্ক গাভী গুলোর উপর বেশি প্রভাব ফেলে, যেখানে দুধের মাধ্যমে ভিটামিন ই সম্পূরক গুলোর বেশির ভাগ অংশ বের হয়ে যায় ।
অন্যান্য পুষ্টি উপাদান
বিটা-ক্যারোটিন এবং ভিটামিন এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি বৈশিষ্ট্যের কারনেও ম্যাস্টাইটিসের প্রতিরোধে কার্যকরী হিসেবে পাওয়া যায় এবং ওলানের গ্রন্থির মিউকসাল  আবরণের  সামঞ্জস্যতা রক্ষা করে ।
জিংক এবং তামাও গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উপাদান যা কোষের ক্ষতিপূরণ দ্বারা ওলানের গ্রন্থি স্বাস্থ্যকে ভাল রাখতে অবদান রাখে, ক্ষত নিরাময় এবং দেহকোষ গণণা কমাতে সহায়তা করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর সাথে মেটালোথিওনিন সংশ্লেষণে বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে তামা দিয়ে সম্পূরক খাদ্য এবং বকনা-বাছুরকে খাওয়ালে সাবক্লিনিকাল ম্যাস্টাইটিসের তীব্রতার পাশাপাশি Escherichia coli দ্বারা প্রবর্তিত ক্লিনিকাল ম্যাস্টাইটিস হ্রাস করে।
অন্যান্য কারণ
গরুর বয়স
এটি দেখানো হয়েছে যে গাভীতে বয়স বাড়ার সাথে সাথে সংক্রামিত কোয়ার্টারে ম্যাস্টাইটিস সংঘটিত হয়,  যা ৭ বছর বয়সে সর্বোচ্চ হয়। এটি  সংক্রমণে ক্রমবর্ধমান কোষের প্রতিক্রিয়া বা প্রাথমিক সংক্রমণের ফলে স্থায়ী ওলানের টিস্যু ক্ষতির কারণে হতে পারে। ছোট প্রাণীদের জন্মগত প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়া গুলো সম্ভবত তাদের সংক্রমণের জন্য কম সংবেদনশীল করে তোলে । যাই হোক, ক্রস-ব্রিড এবং অ-বর্ণানুক্রমিক উভয় প্রজাতি সহ ৪১৩৩ গবাদি পশু ব্যবহার করে পরিচালিত অন্তত এক গবেষণায় ৪-৬ বছর বয়সের মধ্যে সর্বস্বত্বের সর্বাধিক ঝুঁকি দেখা দেয়, তারপরে ২-৪ বছরের মধ্যে বয়সের বয়স, উল্লেখযোগ্য কমপক্ষে ৬-৮ বছর বয়সের মধ্যে। আগ্রহজনক ভাবে এই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে ম্যাস্টাইটিসের প্রতি  ক্রসব্রীড প্রাণীগুলি অ-বর্ণনামূলক প্রাণীগুলি থেকে ২.৫৫ গুণ বেশি সংবেদনশীল হয়।   দুগ্ধ দানের বিভিন্ন পর্যায়
প্রথম দুগ্ধদানে, শুষ্ক সময়ের মধ্যে, বিশেষ করে প্রথম ২-৩ সপ্তাহে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি পেলে এবং প্রথম দুগ্ধদানের সময় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা পদ্ধতির হ্রাসের ফলে বাছুর প্রসবের পর পরই ম্যাস্টাইটিসের হার বৃদ্ধি পায়। বাছুর প্রসবের পর পরই সোমাটিক কোষের গননা ( SCC) সংখ্যা বৃদ্ধি পায় যা প্রধানত নিউট্রফিল,যা সংক্রমণের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি নির্বিশেষে কিছু সপ্তাহের জন্য উচ্চ থাকে। নতুন দুগ্ধদান পর্যায়ের সূত্রপাতের জন্যএই বর্ধিত সোমাটিক কোষের গননা (SCC) প্রাকৃতিকভাবে প্রতিরক্ষার প্রথম ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে দুগ্ধদান পর্যায়ের শেষের দিকে সোমাটিক কোষের সংখ্যা  (SCC) গড় সংখ্যা থেকে বেশি থাকে যা  দুগ্ধদান পর্যায়ের অন্যান্য সময়ের থেকেও বেশি, যা সাবক্লিনিকাল সংক্রমণ  এবং দুধ এর উৎপাদন হ্রাস কে প্রতিনিধিত্ব করে ।
ওলানের প্রত্যাগতি (পূর্ববর্তী  অবস্থায় ফেরত )
দুগ্ধ দানের প্রাথমিক পর্যায়ে, শেষ পর্যায়ে এবং শুষ্ক পর্যায়ের সময় ওলানের উল্লেখযোগ্য কার্যকরী কিছু পরিবর্তন হয় যা গরুর সংবেদনশীলতাকে প্রভাবিত করে সংক্রমণের প্রতি। ধকলের কারনে দুগ্ধ দানকারী গরুর ওলানের যথা সময়ের পূর্বেই প্রত্যাগতি হয়। এই ধরনের অবস্থা ওলানের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়াগুলোকে বিপদ্গ্রস্থ করে যা সম্ভাব্য রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব কে বাঁটের ক্যানেলে আক্রমণ করতে সাহায্য করে । রোগ সৃষ্টিকারী মাধ্যমের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম কার্যকরী  হওয়ার কারনে একই অবস্থা ক্ষত নিরাময় প্রক্রিয়াতেও চলতে থাকে।
গর্ভাশয় ও ওলানের গ্রন্থিসমূহ
গর্ভ ফুলত্যাগে অক্ষমতার সাথে ম্যাস্টাইটিস হওয়ার ঝুঁকি তিনগুন বেড়ে যায় যদি তা Actinomyces pyogenes এর কারনে হয় । পুঁজ জাতীয় পদার্থ নির্গত হলে প্রাণির লেজ, পিছনের অংশ এবং মাটিকে নোংরা করে যা পরিবেশ ও ওলান দূষণে সাহায্য করে এবং সংক্রমণের আধার হিসাবে কাজ করতে পারে। রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব এইভাবে রক্তের মাধ্যমে ওলানের গ্রন্থিগুলোতে ভ্রমণ করে ।
রুমেন ও ওলানের গ্রন্থিসমূহ
রুমেন গাভীর একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা অন্যান্য  অঙ্গের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। যখন রক্তে অম্লের পরিমান বেড়ে যায়, তখন এটি এমন অবস্থার সৃষ্টি করে যা কিনা ব্যাকটেরিয়া যেমন Streptococcus bovis  এবং ছত্রাক যেমন Candida albicans লালনপালন  করে অতএব এই পদার্থগুলি থেকে  হওয়া বিষক্রিয়া সমস্ত দৈহিক গঠনতন্ত্রে ভ্রমণ করতে পারে এবং ওলান আক্রমণে গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়াকে সাহায্য করে।
মানুষের তৈরি কারণ

এমন কিছু মনুষ্য সম্পর্কিত কারণ রয়েছে যা দুধ ও ওলানকে প্রভাবিত করে। এই কারণ গুলো কৃষকদের প্রশ্ন করার মাধ্যমে উদঘাটিত হয়।
মানুষের তৈরি কারন এবং দুধ উৎপাদন:
বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কৃত কারণসমূহ
নিম্ন দেহকোষ গনণা খামারের ভৌগলিক অবস্থান, শুষ্ক গাভীর চিকিৎসা, উৎপাদনশীল খামারে গাভীর প্রতিস্থাপন, দুধ দোহনে ভাল দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবারের উদ্যেগ
উচ্চ দেহকোষ গনণা ছোট গরুর পাল,দুধ দোহনের যন্ত্রপাতির অনিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সিমেন্টের মেঝেতে বিছানাপত্রের অভাব ,শুধুমাত্র ময়লা গাভীর ওলান পরিষ্কার করা, ক্ষুদ্র লক্ষ্য
নিম্ন অনুজীব গনণা শুষ্ক গাভীর চিকিৎসা
উচ্চ অনুজীব গনণা আবদ্ধ ঘর , অপ্রচলিত দুধ দোহনের  যন্ত্রপাতি, তথ্য খোজার কম আগ্রহ ,এন্টিবায়োটিক প্রত্যাহারের কম সময়
উচ্চ দুধ উৎপাদন মাঝারি গরুর পাল, শুষ্ক গাভীর চিকিৎসা, তথ্য খোজার মধ্যম আগ্রহ, রোগের প্রতি অধিক ঝুকিপূর্ণ গাভীগুলো বাদ দেওয়া
নিম্ন দুধ উৎপাদন দুধ দোহনে গরম পানির অভাব , সব গাভীর জন্য একটা কাপড় ব্যবহার করা ,অনান্য খামারিদের সাথে অনিয়মিত সাক্ষাৎ ,বংশ পরম্পরাগত খামার চালিয়ে যাওয়ার অধিক ইচ্ছা ,অবকাশবিহীন
 
রোগনির্ণয় ম্যাস্টাইটিস নির্ণয় করার জন্য, বিভিন্ন ধরনের ম্যাস্টাইটিস সংক্রমণের লক্ষণ এবং উপসর্গগুলোর মধ্যে পার্থক্য কীভাবে করতে হয় তা শিখতে হবে । মূল বিষয়বস্তুগুলো নিচে দেওয়া হয়:
  • দুধ পরীক্ষা করে দেখা ঃ ফিল্টার কাপ ব্যবহার করে দুধ দোহনের আগে প্রথম তিনটি পিচকারি  বের করে দুধের নিয়মিত পরীক্ষা নিঃসন্দেহে ম্যাস্টাইটিস নির্ণয় করার সেরা উপায়। রক্ত, পিণ্ড , স্তর ইত্যাদির উপস্থিতি অবশ্যই দেখতে হবে। স্বাভাবিকের চেয়ে গরম দুধ স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস সংক্রমণের একটি ভাল লক্ষণ।
  • ওলান টিপে বা স্পর্শ করে পরীক্ষা করা ঃ বিশেষ করে দুধ দোহনের পরে , ওলানের ফোলাভাব , তন্তু এবং শক্ত ভাব আহত টিস্যু সনাক্ত করতে সহজ করে।
  • মনযোগী হওয়া ঃ অন্যান্য আরো  সুস্পষ্ট লক্ষণ হল জ্বর, লালভাব ইত্যাদি।

যদি এই লক্ষণগুলো প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে, বিশেষ করে সাবক্লিনিক্যাল, সাবএকিউট বা ক্রনিক ম্যাস্টাইটিসের ক্ষেত্রে তবে তা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সনাক্ত করা যেতে পারে। কিছু পরীক্ষা যেমন দেহকোষগণনা (SCC), ব্যাকটেরিয়া সনাক্তকরণ এবং ক্যালিফোর্নিয়া ম্যাস্টাইটিস টেস্ট (CMT) কার্যকরি হতে পারে ।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
দুধ দোহনের পদ্ধতি
স্বাস্থ্যকর ভাবে দুধ দোহনের অভ্যাস জীবাণু বা তাদের বিস্তার এড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যবিধির উদ্দেশ্য হল একটি গাভীর একটি বাঁট থেকে অন্য বাঁটে বা একগাভী থেকে অন্যটিতে জীবাণুর সংক্রমণকে প্রতিরোধ করা।
ওলান ধৌতকরণ
ওলান ধৌতকরণ স্বাস্থ্যকর এবং দুধের প্রবাহের উপর যার একটি উদ্দীপক প্রভাব আছে। পর্যাপ্ত ধৌতকরণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ম্যাস্টাইটিস প্রতিরোধে যা কিনা দূষিতপরিবেশের থেকে  আসা কলিফর্ম এবং অন্যান্য জীবাণুর কারনে হয়। ভুলভাবে ধৌত ওলান জীবাণু ধ্বংসের পরিবর্তে সংক্রমণে অবদান রাখে।
  • দুধের মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যাকটেরিয়া গণনা নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে ওলান ধুয়ে প্রাপ্ত হয়:
বাঁট ভিজিয়ে বা ধোয়া পৃথক পৃথক আর্দ্র কাগজ তোয়ালে ব্যাবহার করে। ওলান এবং শুধুমাত্র বাঁট ভিজানোর চেয়ে, ওলান এবং বাঁট দুটোই ভিজানো হলে বেশি মাত্রায় ব্যাকটেরিয়া দুধে ঢুকে যায়।
  • পৃথক পৃথক কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে শুকিয়ে নেয়া।
উল্লেখ্য যে,  একা শুকানোর চেয়ে দুধ দোহনের আগে বাঁট ডুবানোর পর তা না শুকালে ভাল ফলাফল পাওয়া যায় না এবং এর মাধ্যমে জীবাণুনাশক দ্বারা দুধ দূষিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

সম্মুখভাগে দুধ দোহন
যন্ত্রের মাধ্যমে দুধ দোহনের আগে হাত দ্বারা একটু দুধ অপসারণ করলে দুধের পতন কে উদ্দীপিত করে এবং উচ্চ অনুজীব গণনা ধারণ কারী দুধের নমুনা পেতে  সহায়তা করে। অস্বাভাবিক দুধ (পিণ্ড, স্তর,জমাটবাঁধ, রক্ত ​​ইত্যাদি) শনাক্ত করার জন্য  একটি ফিল্টার কাপ ব্যবহার করা হয়।
দুধ দোহনের ক্রম
এটা সংক্রমিত গরুর দুধ দোহন শেষে হওয়া অত্যাবশ্যক। যদি সম্ভব হয়, দুধ দোহনের ক্রম নিম্নরূপ হওয়া উচিত: প্রথম দুগ্ধদানকারী গাভী, স্বাভাবিক গাভী,  গাভী দেহ কোষের গণনা বেশিযুক্ত গাভী এবং তারপর সংক্রমিত গাভী ।
দুধ দোহনের সময় অন্যান্য ব্যবস্থা
সম্পূর্ণরূপে দুধ দোহন গুরুত্বপূর্ণ । আধুনিক দোহন যন্ত্র যত ভালভাবে সমন্বিত হয়,দুধ দোহন শেষে জীবাণুর প্রবেশ ব্যাপক ভাবে হ্রাস পায় । ওলানে ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশের  সম্ভাবনা ভ্যাকুয়ামের ব্যাপকতা পরিবর্তন এবং বাঁটগুলোতে ভ্যাকুয়ামের বেগের পরিবর্তন কমিয়ে কমানো যেতে পারে। এটি করার জন্য, একটি ভালরিজার্ভ ভ্যাকুয়াম  এবং উপযুক্ত পাইপিং প্রয়োজন। হাত দিয়ে দুধ দোহানো হলে সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস পেতে পারে, যদিও তাএকটি সম্পূর্ণ পশুপালের জন্য বাস্তবসম্মত নয় । প্রতিদিন দুবার দুধ দোহানো জরুরী , এমন গাভীতেও যার দুধের উৎপাদন কম। যত দীর্ঘ সময় ধরে দুধ ওলানে থাকবে তত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে।
দুধের প্রথম পিচকারি মাটিতে পরতে দেয়া যাবে না কারণ এটি বিছানা এবং মেঝে দূষিত করবে ।
দুধ দোহনের পরে বাঁট ডিপিং
প্রত্যেকবার দুধ দোহনের পর জীবাণুনাশক বাঁট চোবানি ব্যাবহার করলে Streptococcus agalactiae  এবং Staphylococcus aureus  এর মতো সংক্রামক অনুজিবের সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ৫০% হ্রাস পায়।বাঁট চোবানো দুধ দোহানোর সময় জীবাণুর সংখ্যা যথেষ্ট বিকাশে বাধা দেয়। বাঁট চোবানো মাছিদের নিরুৎসাহিত করে।
বাঁটের নমনীয়তা বৃদ্ধির জন্য বাঁট চোবানির ১০% পর্যন্ত প্রলেপ ধারণ করা প্রয়োজন যেমন তেল, গ্লিসারিন, ল্যানোলিন । ওলানের স্বাস্থ্যকর নমনীয় ত্বক ব্যাকটেরিয়া প্রবেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বাধা হিসেবে কাজ করে । Staphylococcus aureus  সুস্থ ত্বকের উপর থাকে না ।
দুধ দোহনের পরে পরিষ্কারের সরঞ্জামাদি
দুধ দোহনের পরে অপরিহার্য একটি কাজ হল সরঞ্জাম পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করা। কিছু উৎপাদনকারী ফসফরিক এসিড এবং ক্লোরিনের বিকল্প হিসাবে সাইডার বা ভূট্টার ভিনেগার এবং পার অক্সাইড ব্যবহার করে।
স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা
প্রচুর পরিমাণে বিছানা আঘাত থেকে বিরত রাখে , ঠান্ডার প্রকটতা কে কমায় , স্যাঁতসেঁতে মেঝে এবং গোবরের সাথে ওলানের যোগাযোগ সীমাবদ্ধ করে। প্রতি পশুর জন্য প্রতিদিন ৩ কেজি খড় ব্যবহার করতে হবে (প্রতি বছরে প্রতি গাভীর জন্য এক টন)। বেশি পরিমানের বিছানা কম সময় ব্যাবহারের চেয়ে বরং কম পরিমানে বিছানা সব সময়ের জন্য ব্যাবহার করা ভাল । বিছানার তৈরির জন্য খড়কে বেশি পছন্দ করা হয়। যেখানে পরিবেশগত ম্যাস্টাইটিস একটি সমস্যা,সেখানে বিছানায় চুন যোগ করলে তা সাহায্য করতে পারে, কিন্তু তা আবার ওলান ও বাঁটের জন্য সমস্যার কারন হতে পারে। গাভীগুলোকে তাদের ওলান আহত করা থেকে বিরত রাখা গুরুত্বপূর্ণ ।
গাভীগুলো বাইরে যাওয়ার সময় মেঝে পিচ্ছিল হওয়া উচিত নয় এবং গাভীদের মধ্যে বিভাজক থাকা উচিত। গাভীর ঘর বছরে দুইবার জীবাণুমুক্ত করা উচিত ।
ম্যাস্টাইটিস রোগ নিরাময়ে ব্যবস্থা এই প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা ক্লিনিকাল এবং ক্রনিক ম্যাস্টাইটিসের জন্য বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু চিকিৎসামূলক পদ্ধতিগুলির বিস্তৃত পরিসর রয়েছে যেমন হোমিওপ্যাথি, মৃত্তিকা থেরাপি, ফাইটোথেরাপি ইত্যাদি যা অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে । অ্যান্টিবায়োটিকের থেকে  হোমিওপ্যাথির সুবিধা হচ্ছে দুধ দোহানো অব্যাহত রাখা যায় । গরুতে চিকিৎসা চলাকালিন সময়ে অন্যান্য অনুশীলনের পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ ঃ
  • সংক্রমিত গরুকে বিবেচনা করে খাবার দিতে হবে । লক্ষণগুলি আবির্ভূত হওয়ার পরযত দ্রুত সম্ভব দানাদার খাবার এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে দিতে হবে এবং যতক্ষন পর্যন্ত না সেগুলোঅদৃশ্য হয়ে যায়এবং অতিরিক্ত ফাইবার  এবং (ক্লিনিক্যাল ম্যাস্টাইটিসের জন্য বিশেষত) ল্যাক্সাটিভ গুলো অন্তর্ভূক্ত করা উচিত।
  • কিছু রেচক পদার্থ দেওয়া উচিত (হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ছাড়া )
  • সংক্রমিত প্রানিতে ঠাণ্ডা ও খড়া এর প্রভাব এড়িয়ে চলতে হবে।
  • তিন থেকে ছয় বার হাল্কা ভাবে হাত দিয়ে দুধ দোহন করতে হবে ।
  • বাঁটের মধ্যে ইনজেকশন এর মাধ্যমে ওলানের ভিতরে ওষুধ দেওয়ার সময় অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
  • দূষিত পরিবেশে পরিষ্কার ইনজেকশন তৈরি করা বেশ কঠিন।
যে কোন ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি না হলে খামারিকে প্রাণী চিকিৎসক এর সাথে যোগাযোগ করা উচিত

হোমিওপ্যাথি :
প্রতিরোধ :
প্রাণী পালের উপর নোসড ব্যবহার করে প্রতিষেধক হিসেবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পরিচালিত হয়  বরং পৃথক প্রাণী উপর । নোসোডস হচ্ছে বিশেষ হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার যা রোগযুক্ত টিস্যু বা অসুস্থ পশুর নাক থেকে নির্গত পদার্থ নিয়ে তৈরি করা  হয় যা প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া বাড়ায়। সমস্যা সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রজাতির ভিত্তিতে নোসড প্রস্তুতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটা সুপারিশকৃত যে নোসোড এর ৩০ ক্রমের তরল দ্রবণ মুখে বা পানির সাথে পশু-পালকে দেওয়া যেতে পারে।
নির্দিষ্ট চিকিৎসাঃ লক্ষণ এবং উপসর্গ যেমন ডেলা-পাকানো দুধ, ফুলার ধরণ ইত্যাদি অনুসারে নির্দিষ্ট হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচিত করা হয়।
ম্যাস্টাইটিস চিকিৎসার জন্য ম্যাকলিওড (বিখ্যাত হোমিওপ্যাথিক ভেটেরিনারিয়ান) দ্বারা ব্যবহৃত   হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার /ঔষধ
হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার/ঔষধ  লক্ষণ ডোজ
বেলাডোনা ১ এম বাচ্চা হওয়ার  পরবর্তীতে তীব্র ম্যাস্টাইটিসের জন্য। ওলান খুব গরম এবং লাল,  স্পর্শে ব্যাথা। প্রাণীর জ্বর হয় এবং  পালস দ্রুত এবং স্পষ্ট হয় প্রতি ঘন্টায় ১ ডোজ করে ৪ ডোজ
একোনিটাম ৬ এক্স সকল তীব্র কেসের জন্য দৈনন্দিন চিকিৎসা, বিশেষ করে যেগুলোতে  শুষ্ক  ঠান্ডা বাতাসের সংষ্পর্শে আসার সাথে সাথে বিকশিত হয়।টান এবং উত্তেজনা মুক্ত প্রতি আধা ঘন্টায় ১ ডোজ করে  ৬ ডোজ
এপিকস মেল্লিফিকা ৬সি প্রথম বাচ্চা দেয়ার জন্য নির্দেশিত। বকনা-বাছুরের ওলানের চারপাশে ফুলা হয়। স্তন্যের শিরা স্ফীত হয় প্রতি ৩ ঘন্টায় ১ ডোজ করে ৪ ডোজ
ব্রিয়োনিয়া আলভা ৩০ সি খুব শক্ত এবং স্ফীত ওলানের জন্য নির্দেশিত। যখন চাপ দেয়া হয় ব্যাথা কম তীব্র হয়। প্রাণীটি প্রায়ই শুয়ে থাকে। বিশেষভাবে ফাইব্রোসিস সহ দীর্ঘস্থায়ী কেসগুলোর জন্য ভাল তীব্র কেসগুলোতেঃ প্রতি ৪ ঘন্টায় ১ ডোজ করে ৪ ডোজ দীর্ঘস্থায়ী কেসগুলোতেঃ এক মাসের জন্য  ১ ডোজ করে ১ সপ্তাহে ২ বার।
আরনিকা মোনটানা ৩০ সি ওলানের আঘাতে পরিণত ম্যাস্টাইটিসের জন্য।সেখানে রক্তক্ষরণ হতে পারে দিনে ৩ ডোজ করে ৩ দিন।
বেলিয়া পেরেন্নিস ৬ সি আরনিকার সঙ্গ হিসেবে, কিন্তু গভীর আঘাতের জন্য।(যেমনঃঅবহেলিত দুগ্ধবতী গাভী দিনে ৩ ডোজ করে ৪ দিন।
ফাইটোলাক্কা ৩০ সি ক্লিনিকাল এবং দীর্ঘস্থায়ী কেসগুলোর জন্য উপযোগী। টক, জমাট বাঁধা দুধসহ ক্লিনিকাল কেসগুলো। দুগ্ধদানের মধ্যবর্তী সময়ে ছোট ঘনীভূত দ্রব্যসহ দীর্ঘস্থায়ী কেসগুলো ক্লিনিকালঃ ৩ গুণ করে প্রতিদিন ৩ দিনের জন্য, এরপর দিনে ৩ ডোজ করে ৪ দিন। দীর্ঘস্থায়ীঃ প্রতি ৩ ঘন্টায় ১ ডোজ করে ৪ডোজ।
আরটিকা উলেন্স ৬ এক্স ক্লিনিকাল কেসগুলোর জন্য যেখানে ফুলা প্লাকস তৈরি করে মাঝে মাঝে পেরিনিয়াম পর্যন্ত প্রতি  ঘন্টায় ১ ডোজ করে ৪ডোজ।
এস.এস.সি ৩০ সালফার, সিলিকা এবং কার্বো বেজিটাবিলিস এর মিশ্রণ যা ক্লিনিকাল এবং দীর্ঘস্থায়ী কেসগুলোর  ক্ষেত্রে ভাল ফলাফল দেয়।দলাগুলো বড় এবং হলদে হয়, বিশেষ করে, দুধের প্রথম পিচকারিতে দিনে ৩ ডোজ করে ৩ দিন।
হেপার সালফিউরিস ৬ এক্স গ্রীষ্মকালীন ম্যাস্টাইটিস কেসগুলোতে পুঁজ এবং ওলান পরিষ্কারের উদ্দেশ্যে(C. pyogenes) প্রতি ৩ ঘন্টায় ১ ডোজ করে ৪ডোজ। ওলান ঠিক হওয়ার পরে ১ অথবা ২ ডোজ  পানি মিশিয়ে দিতে হবে।
সিলিসিয়া ২০০ সি পুঁজযুক্ত ফোড়াসহ  গ্রীষ্মকালীন ম্যাস্টাইটিস কেসগুলোতে জন্যও ব্যবহৃত হয় প্রতি সপ্তাহে ২ ডোজ করে ৪ সপ্তাহ
ইপেকা ৩০ সি অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ যা ফ্যাকাশে লাল বা রক্তিম দুধ তৈরি করে তার চিকিৎসার জন্য দিনে ৩ ডোজ করে ৩ দিন।
উৎস: ম্যাকলিওড (১৯৮১), Legend: x, c and m refer to dilutions 10, 100 and 1,000 ম্যাস্টাইটিস চিকিৎসার জন্য কুইকোয়ানডন (বিখ্যাত হোমিওপ্যাথিক ভেটেরিনারিয়ান) দ্বারা ব্যবহৃত   হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার /ঔষধ
হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার/ঔষধ লক্ষণ
বেলাডোনা ৫ সিএইচ . গরম লাল উরজ যা স্পর্শে ব্যাথা হয়, অতিরিক্ত জ্বর। প্রোস্টেট প্রাণী ।
লেছেসিস ৫ সিএইচ + বেলাডোনা ৫ সিএইচ বেগুনি উরজ, পাশের পছন্দ অনুযায়ী অন্তর্নিহিত টিস্যুর অনুপ্রবেশ।প্রোস্টেট প্রাণী ।
লেছেসিস ৫ সিএইচ + কার্বোলিকাম এসিডাম ৫ সিএইচ পচনশীল ম্যাস্টাইটিস
ভাইপেরা রেড্ডি ফুলাসহ তীব্র প্রদাহ, স্ফীত শিরা, পঁচার প্রবণতা, স্পর্শে অত্যন্ত ব্যাথা, ওলানের কিছু অংশ ঠান্ডা হতে পারে। দুর্বল হার্ট , অল্প দ্রুত পালস।
কুনিয়াম ম্যাকোলেটাম  + প্লামবাম আয়োডেনাম ৫ সিএইচ গ্রন্থির চিহ্নিত সংক্রমণ। দীর্ঘস্থায়ী ম্যাস্টাইটিস বা ম্যাস্টাইটিসের শেষের দিকে। স্পরশে সামান্য বা কোন ব্যাথা নাই। হঠাৎ বড় হওয়ার পর ছোট হয়ে যাওয়া।
কুনিয়ামের পরিবর্তে ফাইটোলাক্কা শক্ত চতুর্থাংশ বা ভিতরে গাছের শিকড়ের গ্রন্থি ন্যায়। স্পর্শে ব্যাথা, রেট্রোম্যামারি গ্যাঙ্গ্লিয়া। বাঁটের চারপাশে ফাটল।
ব্রিওনিয়া শক্ত গ্রন্থিসহ তীব্র ম্যাস্টাইটিস ,গরম কিন্তু বিবর্ণ। নিশ্চল প্রাণী। শক্তিশালী চাপ বেদনা কমায়।
সিলিসিয়া পুজ শুকানোর জন্য
উৎস : কুইকোয়ানডন (১৯৮২) ক্লিনিকাল ম্যাস্টাইটিস কেসের ক্ষেত্রে ,বিশেষ করে যা ই.কোলাই দ্বারা হয়, তার জন্য নিম্নলিখিত  হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ভাল ফলাফল পাওয়া যায়ঃ
  • প্রাথমিক চিকিৎসাঃ একোনিটাম ডি ৪,  ফাইটোলাক্কা ডি ১,ব্রিওনিয়া ডি ৪
  • পরবর্তী চিকিৎসাঃ ফাইটোলাক্কা ডি ১,ব্রিওনিয়া ডি ৪,লেছেসিস ডি৪, মারকিউরিয়াস সলিউবিলিস ডি৪
ঘৃতকুমারী:
ঘৃতকুমারী বিশেষ করে ওলানেআঘাতের চিকিৎসার  জন্য ব্যাবহার করা  হয়, যা প্রায়ই স্টাফাইলোকক্কাল ম্যাস্টাইটিসে পরিণত করে । ঘৃতকুমারী প্রয়োগে  টিস্যুদ্রুত নিরাময় হয় । ম্যাস্টাইটিসের  জন্য, কোটস এবং হল্যান্ডে  সংক্রমিত কোয়ার্টারে অন্তত  ২0 থেকে ৬০ মি.লি. ঘৃতকুমারী (জেল বা রস আকারে) ইনজেকশন আকারে দিনে অন্তত একবার দেওয়া উপযোগী বলে মনে করা হয়। ইনজেকশন দেওয়ার পূর্বে  বাঁটের শেষ প্রান্ত অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করতে হবে কারণ  ঘৃতকুমারী তার সাথে সমস্ত নোংরা বহন করবে বাঁটের ভিতর পর্যন্ত, এভাবে পরিস্থিতি আরও খারাপ করবে। ঘৃতকুমারীর প্রদাহ বিরোধী এবং রক্ত জমাটকারী বৈশিষ্ট্য সংক্রমণ নিষ্কাশন করতে সাহায্য করে । এটির মূত্রবর্ধক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শক্ত ওলান কে নরম করতে সাহায্য করে। আবারো, মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে এই চিকিৎসা চলাকালীন গাভীর দুধ কে  দুধের ট্যাংকে রাখা যাবে  না ।
চিকিৎসা
ওলান প্রদাহের চিকিৎসা কৌশল
এটি নির্ভর করে
  • ওলান প্রদাহ ক্লিনিক্যাল না সাব-ক্লিনিক্যাল; তীব্র নাকি দীর্ঘমেয়াদী
  • খামারের স্বাস্থ্যগত অবস্থা
  • ওলান প্রদাহের পূর্বের অবস্থা
দুধ দানের সময় চিকিৎসার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র তীব্র ক্লিনিক্যাল ম্যাসটাইটিসের ক্ষেত্রেই নিতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদি রোগে আক্রান্ত গাভী এন্টিবায়োটিকের প্রতি কম ফলাফল দেখায়। সাব- ক্লিনিক্যাল ম্যাস্টাইটিসের নিজে নিজে ভালো হবার প্রবনতা থাকে। এছাড়া একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে,  সাব- ক্লিনিক্যাল ম্যাস্টাইটিস এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদী গাভীর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গাভীর দুধ বন্ধের সময় চিকিৎসায় ভালো হয়।
ওষুধ নির্বাচন
  • এন্টিবায়োটিক
  • এনএসআইডি (নন স্ট্যারয়ডাল এন্টি ইনফ্লামেটরী ড্রাগস)
  • সহায়ক চিকিৎসা (ফ্লুয়িড থেরাপী)
এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের নির্দেশিকা
ওলান প্রদাহ নিরাময়ে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার নিচের বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে-
    • জীবাণুর প্রকারভেদ
    • ওলান প্রদাহের প্রকার ও মাত্রা
    • সংক্রমনের স্থিতিকাল
  • গাভীর বয়স ও গর্ভাবস্থা
এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর, এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে কোন পথে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হবে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওলান প্রদাহে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে নিম্মোক্ত পথ অনুসরণ করা যায়-
জীবাণুর প্রকারভেদ সংক্রমণের জায়গা এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের পথ
এস. এগালেকশিয়া প্যারেনকাইমাল টিস্যু ইন্ট্রা-ম্যামারী (বাঁটের মধ্যে) এন্টিবায়োটিক
সমগ্র দেহে সংক্রমণ সিস্টেমিক এন্টিবায়োটিক
এস. ইউবেরিস সমগ্র দেহে সংক্রমণ সিস্টেমিক এন্টিবায়োটিক
সি. বভিস, সিওএনএস প্রধানত দুধ ও বাঁটের ছিদ্রপথে ইন্ট্রা-ম্যামারী (বাঁটের মধ্যে) এন্টিবায়োটিক
কে. নিউমনিয়া সমগ্র দেহে সংক্রমণ শিরা বা মাংসে এন্টিবায়োটিক
ই. কলাই সমগ্র দেহে সংক্রমণ বেশির ভাগ সময় চিকিৎসা দেয়া হয় না। যদি দিতে হয়, তবে শিরা বা মাংসে এন্টিবায়োটিক
এম. বভিস সমগ্র দেহে সংক্রমণ (সাব-ক্লিনিক্যাল অবস্থায়) চিকিৎসা দেয়া হয় না
এস. অরিয়াস, ট্রুপেরেলা  পায়োজেন্স প্যারেনকাইমাল টিস্যু ইন্ট্রা-ম্যামারী (বাঁটের মধ্যে) এবং শিরা বা মাংসে এন্টিবায়োটিক
  এন্টিবায়োটিক নির্ধারণ করা ওলান প্রদাহ নিরাময়ে এন্টিবায়োটিক নির্ধারণ নির্ভর করে-
  • কালচার ও সেন্সিটিভিটি পরীক্ষা
  • প্রায় ১০-৪০% ক্লিনিক্যাল ম্যাস্টাইটিসে কোন ব্যাকটেরিয়ার জন্মানো দেখা যায় না , তাই এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।
  • একটি বিশাল সংখ্যক গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া গাভীর নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়া দ্বারা বের হয়ে যায়, তাই এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।
নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিক নির্ধারণ
গ্রাম- পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া, বিটা- ল্যাক্টামস নেগেটিভ
প্রথম পছন্দ পেনিসিলিন দ্বারা চিকিৎসা
দ্বিতীয় পছন্দ শুধু সহায়ক চিকিৎসা, এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই
গ্রাম- পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া, বিটা- ল্যাক্টামস পজিটিভ
প্রথম পছন্দ প্রথম পছন্দ
দ্বিতীয় পছন্দ দ্বিতীয় পছন্দ
গ্রাম- নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া ( ই. কলাই )
প্রথম পছন্দ প্রথম পছন্দ
দ্বিতীয় পছন্দ (শুধুমাত্র বাচ্চার দেয়ার সময়ে তীব্র ওলান প্রদাহের ক্ষেত্রে) দ্বিতীয় পছন্দ (শুধুমাত্র বাচ্চার দেয়ার সময়ে তীব্র ওলান প্রদাহের ক্ষেত্রে)
গ্রাম- নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া (ক্লেবসিয়েলা)
প্রথম পছন্দ ওই সমস্ত এন্টিবায়োটিক দ্বারা চিকিৎসা যারা গ্রাম- নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর
দ্বিতীয় পছন্দ শুধুমাত্র সহায়ক চিকিৎসা
নরডিক গাইডলাইন ফর ম্যাস্টাইটিস থেরাপি (২০০৯)
চিকিৎসার সময়
  • এস. অরিয়াস ও স্ট্রে. ইউবেরিস – ৫ দিন
  • অন্যান্য গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া- সংক্রমনের হারের ওপর ভিত্তি করে ৩-৫ দিন
  • যদি ওলানের অবস্থার উন্নতি ঘটে কিন্তু ৫ দিন পরেও সম্পূর্ণ ভালো না হয়, তবে চিকিৎসা আর ১-২ দিন চালাতে হবে
  •  ক্লেবসিয়েলা- ৩ দিন
  • অন্যান্য গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া- ৩ দিন
  • কালচারে কোন ব্যাকটেরিয়া নেই- এন্টিবায়োটিক বন্ধ করতে হবে
নোটঃ খামারিকে অবশ্যই চিকিৎসার সম্পূর্ণ ডোজ শেষ করতে হবে। গাভী ভালো হয়ে গেছে এই ভেবে চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়া যাবে না। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হলেও রোগের লক্ষন দূর হতে সময় লাগে।
সহায়ক চিকিৎসা
দুধ দোয়ানোর মেশিনে বা হাতে দুধ দোয়ানোর সময় দুধ দোয়ানোর হার বাড়িয়ে দিতে হবে। মাংসে অক্সিটোসিন ইনজেকশনের মাধ্যমে দুধ নামানো যায়। শিরায় বা মুখে ফ্লুয়িড থেরাপী দেয়া যেতে পারে। গাভীতে দুধ নামানোর জন্য ১-২ মিলি অক্সিটোসিন ( অক্সিন, অক্সিটসিনা ডায়ানা, ইউনি- অক্সিটোসিন) মাংসে দেয়া যেতে পারে। অক্সিটোসিন মূলতঃ গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংঘটিত ওলান প্রদাহে ব্যবহার করা হয় (স্ট্রেপ্টোকক্কাই দ্বারা সংঘটিত রোগে অক্সিটোসিনের নেগেটিভ ফলাফল হতে পারে)।  গাভীকে ২-৫ মিনিটের মধ্যে দুধ দোয়াতে হবে। অক্সিটোসিনের প্রিপারটাম ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।  প্রিপারটাম ব্যবহারের জন্য সারভিক্স অবশ্যই প্রাকৃতিকভাবে বা ইস্ট্রোজেন অথবা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ব্যবহার করে কৃত্তিমভাবে খোলা রাখতে হবে।   এন্টি ইনফ্লামেটরী ড্রাগস ব্যবহারের মাধ্যমে ফোলা ওলানের ব্যথা কমান যায় এবং এটি গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা উৎপন্ন এন্ডোটক্সিন বা বিষের বিরুদ্ধে কাজ করে। এনএসআইডি মুলতঃ মাঝারি ও তীব্র ওলান প্রদাহে ব্যবহার করা যায়। যদি গাভীতে পানিশূন্যতা দেখা যায়, তবে শিরায় বা মুখে স্যালাইন দেয়া যেতে পারে।
আরোগ্য হবার সম্ভাবনা অনুধাবন করা
যদি খামারে প্রতিস্থাপন করা যায় এমন গাভী থাকে, তবে আরোগ্য হবার সম্ভাবনা কম এমন গাভীকে বাদ দেয়া যেতে পারে।  গাভী বাতিল করা ও চিকিৎসার খরচ পাশাপাশি তুলনা করে সবচেয়ে সাশ্রয়ী পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

References

Akyuz A, Boyaci S, Cayli A. 2010. Determination of critical period for dairy cows using temperature humidity index. J Anim Vet Adv 9: 1824-1827.
Bargeloh, J.F. and R.O. Thomas. 1976. Relationship of mastitis and urea in rations as measured by certain milk and blood constituents. West Virginia Agriculture and Forestry, 6(3):5-7, 17.
Batra, T.R., M. Hidiroglou and M.W. Smith. 1992. Effect of vitamin E on incidence of mastitis in dairy cattle. Canadian Journal of Animal Science, 72(2):287-297.
Brim, M. and L.L. Timms. 1989. In vitro growth of environmental mastitis pathogens in various bedding materials. Journal of Dairy Science, 72(suppl. 1):14-15.
Chamberlain AT, Wilkenson JM. 1996. Feeding the dairy cow. Chalcombe Publications 90-91.
Dhakal IP, Dhakal P, Koshihara T, Nagahata H. 2007. Epidemiological and bacteriological survey of buffalo mastitis in Nepal. J Vet Med Sci 69: 1241- 1245.
Eckles CH. 1913. Dairy cattle and milk production. The Macmillan Company, New York, 342.
Eckles, C.H. 1913. Dairy cattle and milk production. MacMillan, New York. 342 pages.
Emmert, M. and K. Wendt. 1991. [Correlations between feedinq-related metabolic disorders and damage to udder health in dairy cows]. Monatshefte für Veterinärmedizin, 46(15):538-542.
Giesecke WH, Du Preez JH, Petzer IM. 1994.  Practical Mastitis Control in Dairy Herds. Diagnosis of udder health problems, Butterworth Publishers: Durban, South Africa.
Giesecke, W.H. 1985. The effect of stress on udder health of dairy cows. Onderstepoort Journal of Veterinary Research, 52:175-193.
Grindal, R.J. 1988. The role of the milking machine in mastitis. British Veterinary Journal, 144:524-533.
Grohn YT, Erb HN, McCulloch CE, Saloniemei HS. 1990. Epidemiology of mammary gland disorders in multiparous Finnish Ayrshire cows. Prev Vet Med 8: 241-252.
Harmon RJ (1994) Physiology of mastitis and factors affecting somatic cell counts. J Dairy Sci 77: 2103-2112.
Hogan, J.S. , K.L. Smith, K.H. Hoblet, D.A. Todhunter, P.S. Schoenberger, W. D. Hueston, D.E. Pritchard, G.L. Bowman, L.E. Heider, B.L. Brockett, H.R. Conrad. 1989. Bacterial counts in bedding materials used on nine commercial dairies. Journal of Dairy Science, 72(1):250-258.
Jones GM. 2001. Cold weather mastitis prevention tips. Dairy Pipeline.
Jones GM. 2009. The Role of Milking Equipment in Mastitis. Virginia Cooperative Extension.
Keller, P. 1977. The influence of the environment on the health of cows in cubicle stalls. Proceedings of a seminar on Agricultural Buildings, As, Norvège, Section II, pages 118 to 124.
Klastrup, O., G. Bakken, J. Bramley and R. Bushnell. 1987. Environmental influences on bovine mastitis. Bulletin of the international dairy federation, No. 217, 37 pages.
Klug, F., H. Franz, B. Bethge, G. Jansch, F. Lemme. 1989. [Effects of level of nutrition during early lactation on health and conception rate of group-fed dairy cowsl. Tierzucht, 43(2):56-57.
MacLeod, G. 1981. The treatment of cattle by homeopathy. Health Science Press, Saffron Walden, Essex, England. 148 pages.
Mein GA, Neijenhuis F, Morgan WF, Reinemann DJ, Hillerton JE, et al. 2001. Evaluation of bovine teat condition in commercial dairy herds: 1. Non-infectious factors. Proceedings of the 2nd International Symposium on Mastitis and Milk Quality, NMC/AABP, Vancouver, 374-351.
Merck, C.C., B. Sonnenwald and H. Rollwage. 1989. [Studies in the treatment of acute bovine mastitis with homeopathic drugsl. Berliner und Munchener Tierarztliche Wachenschrift, 102(8) :266-272.
Milojevic, Z., M. Siradovic, D. Marovic, D. Sandor, R. Micic, S. Kojevic, M. Ismailovic and S. Filipovic. 1988. [Effect of various management systems on udder infections and the occurrence of mastitis]. Nauka u Praski, 18(2):231-236.
Morse, D., M.A. Lorenzo, C.J. Wilcox, R.J. Collier, R.P. Natzko, D.R. Bray. 1988. Climatic effects on occurrence of clinical mastitis. Journal of Dairy Science, 71 (3):848-853.
Ndiweni, N. and J.M. Finch. 1991. The relationship between vitamin E-selenium status and the incidence of mastitis in dairy herds near Harare. Zimbabwe Veterinary Journal, 22(4):101 -109.
Newman LE, Kowalski JJ. 1973. Fresh Sawdust Bedding-A Possible Source of Klebsiella Organisms. Am J Vet Res 34(7).
Nordic guidelines for mastitis therapy, NMSM Annual Conference, 2009
Oliver, J., F.H. Dodd and F.K. Neave. 1956. Udder infections in the dry period. 5. The effect of teat disinfection at drying-off on the incidence of infections in the early dry period. Journal of Dairy Research, 23:212-216.
Pankey, J.W. 1989. Hygiene at milking time in the prevention of bovine mastitis. British Veterinary Journal, 145:401 -409.
Philpot, W.N. 1978. Prevention of mastitis by hygiene. pages 547 to 562. In Wilcox, C.J. et al.. 1978. Large dairy herd management. University of Florida, Gainesville, Florida. 1046 pages.
Philpot, W.N. and F.H. Dodd. 1978. Mastitis. Chapter 23 In Wilcox, C.J. et al.. 1978. Large dairy herd management. University of Florida, Gainesville, Florida. 1046 pages.
Pouden, W.D., J.W. Hibbs and B.H. Edging on. 1952. The activity of streptococcus agalactiae in milk possibly influenced by the ration. American Journal of Veterinary Research, 13:486-499.
Quiquandon, H., 1982. Veterinary Medicine and Organic Farming. Biotherapic Medicine in Livestock. In Basic Technics in Ecological Farming / Basic Techniques in Organic Farming / Grundsätzliche Verfahren der ökologischen Landwirtschaft / The Maintenance of Soil Fertility / The Maintenance of Soil Fertility / Die Erhaltung der Bodenfruchtbarkeit (pp. 149-170
Radostits, O.M. 1961. Coliform mastitis in cattle. Canadian Veterinary Journal, 2:201-206.
Ranjan R, Gupta MK, Singh KK. 2011. Study of bovine mastitis in different climatic conditions in Jharkhand, India. Vet World4: 205-208.
Schukken YH, Grommers FJ, Van de Geer D, Brand A. 1989.  Incidence of clinical mastitis on farms with low somatic cell counts in bulk milk. Vet Rec 125: 60-63.
Schukken YH, Grommers FJ, Van de Geer D, Brand A. 1989. Incidence of clinical mastitis on farms with low somatic cell counts in bulk milk. Vet Rec 125: 60-63.
Schukken, Y.H., H.N. Erb and J.M. Scarlett. 1989. A hospital-based study of the relationship between retained placenta and mastitis in dairy cows. Cornell Veterinarian, 79(4):319-326.
Sentitula, Yadav BR, Kumar R. 2012.  Incidence of Staphylococci and Streptococci during winter in mastitic milk of sahiwal cow and murrah buffaloes. Ind J Microbiol 52: 153-159.
Seykora AJ, McDaniel BT. 1985. Udder and teat morphology related to mastitis resistance: a review. J Dairy Sci 68: 2087-2093.
Shaldon JP. 1980. Dairy farming: being the theory, practice, and methods of dairying (1880). Cassell and Company, London 575.
Shathele MS. 2009. Weather effect on bacterial mastitis in dairy cows. Intl J Dairy Sci 4: 57-66.
Smith KL and Hogan JS. 2000. Bedding’s Contribution to Mastitis in Dairy Cows. Dairy Housing and Equipment Systems, Managing and Planning for Profitability. NRAES 129.
Smith, K.L., J.S. Hogan and B.P. Weiss. 1989. Dietary selenium and vitamin E influence the resistance of cows to mastitis. Pages 27 to 32 In Proceedings of the British Mastitis Conference. 1989. The environment and mastitis. Cambridge, UK.
Sordillo LM, Shafer-Weaver K, DeRosa D. 1997. Immunobiology of the mammary gland. J Dairy Sci 80: 1851-1865.
Sterk, V., R. Beslin, A. Anojcic and A. Pavlicevic. 1978. [Effect of method of feeding on the defence capacity of the udder in dairy cows]. Veterinarski Glasnik, 32(11):899-903.
Stowell RR, Inglis S, 2000. Sand For Bedding. Dairy Housing and Equipment Systems. NRAES 129.
Tiwari JG, Babra C, Tiwari HK, Williams V, Wet SD, et al. 2013. Trends In Therapeutic and Prevention Strategies for Management of Bovine Mastitis: An Overview. J Vaccines Vaccin 4: 176. doi:10.4172/2157-7560.1000176
Underwood EJ, Suttle NF. 1999. In: The Mineral Nutrition of Livestock. Underwood EJ and Suttle NF (eds), CABI Publishing, New York.
Upadhayay AK, Gangwar P, Kumar M. 2008. Supplementation to prevent subclinical mastitis. Vet World 1: 40-41.
Weiss, W.P., J.S. Hogan, K.L. Smith and K.H. Hoblet. 1990. Relationships among Se, vitamin E and mammary gland health in commercial dairy herds. Journal of Dairy Science, 73(2):381-390.
Whittaker, J. 1995. Seeking the nutrition factor in mastitis. Acres USA, 15(11):41.
www.printfriendly.com (Responsible Use of Antibiotics for Treatment of Clinical
www.progressivedairy.com/topics/management/make-better-decisions-with-mastitis-grading-chart
www.svenskmjolk.se (Nordic Guidelines for Mastitis Therapy)
Zehner MM, Farnsworth RJ, Appleman RD, Larntz K, Springer JA. 1986. Growth of Environmental Pathogens in Various Bedding Materials. J. Dairy Sci. 69(7).

১.১  ইতিহাস

গবাদিপশুর মধ্যে গৃহপালিত মহিষ অন্যতম যা মানুষকে দুধ ও মাংস সরবরাহ এবং মালামাল পরিবহনের বাহন হিসেবে সহায়তা করে এসেছে। এই প্রাণীটি এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং আমেরিকার প্রায় ৭৭টি দেশে পালন করা হয়।  প্রায় ৯০০ হাজার বছর আগে বিভিন্ন এশিয়ান বন্য মহিষ হতে দুই জাতের গৃহপালিত মহিষের উদ্ভব হয় যা পরবর্তীতে অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা  করা হয় যে, ভারতীয় উপমহাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে নদীর মহিষ (B. bubalis bubalis) লালনপালন শুরু হয় (৬,৩০০ বছর আগে) এবং পরে তা মিশর, বলকান অঞ্চল, গ্রিস এবং ইতালিতে ছড়িয়ে পরে। অন্যদিকে জলার মহিষ (B. bubalis carabanesis) চীনের সীমান্ত এলাকা এবং ইন্দোচীন এলাকায় (৩০০০- ৭০০০ বছর আগে) লালনপালন শুরু হয় এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, আসাম, বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্য দিয়ে ইয়াংজি নদীর অববাহিকায় ছড়িয়ে পড়ে।

১.২ বিস্তরণ

উন্নত মানের দুধ ও মাংস উৎপাদন এবং কঠিন আবহাওয়ায় খাপ খাইয়ে নেয়ার কারণে মহিষ পালনে দিনদিন আগ্রহ বাড়ছে। মহিষ সাধারণত ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইরাক, ইরান, নেপাল, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, তুরস্ক, ইতালি, চীন, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল ও মিসরে পাওয়া যায়। ২০১৮ সালে সারা বিশ্বে প্রায় ২০ কোটি মহিষ আছে বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে মহিষ সবচেয়ে বেশী পাওয়া যায় এশিয়াতে (৯৭.৩%) এবং বাকি মহাদেশগুলোতে তুলনামুলক কম যথাক্রমে আফ্রিকা (১.৭%), আমেরিকা (০.৭%), ইউরোপ (০.৭%) এবং ওশেনিয়া (০%)। সবচেয়ে বেশি মহিষ পাওয়া যায় ভারতে (টেবিল-১)। ভারতের মোট দুধের প্রায় ৫৫ শতাংশ দুধ উৎপাদন আসে মহিষ থেকে। সবচেয়ে উন্নত এবং উচ্চ উৎপাদনশীল মহিষের জাত এই ভারত থেকেই উদ্ভব হয়েছে যেমন মুরাহ, নিলি-রাভি, সুরতি ও জাফরাবাদি। ছক ১.১: বিভিন্ন দেশে মহিষের সংখ্যা
দেশ মহিষের সংখ্যা (মিলিয়ন)
ভারত ১১৪.১৫
পাকিস্তান ৩৮.৮৪
চীন ২৭.১১
ব্রাজিল ১.৩৯
ইতালি ০.৪০
মালয়েশিয়া ০.১১
শ্রীলঙ্কা ০.৩০
থাইল্যান্ড ১.২৫
ভিয়েতনাম ২.৪২
ফিলিপাইন ২.৮৮
মায়ানমার ৩.৭৯
নেপাল ৫.২৭
বাংলাদেশ ১.৪৮

ছবি ১.২: বিশ্বে মহিষের বিস্তরণের মানচিত্র (সহযোগিতায়: Minervino et al., 2020)

১.৩: মহিষের ধরণ ও জাত

বন্য মহিষের দুইটি প্রধান জাত হলো এশিয়ান জলমহিষ  (Bubalus arnee) ও আফ্রিকান মহিষ (Syncerus caffer)। এশিয়ান জলমহিষের অন্য দুটি জাত হলোঃ নদীর মহিষ (B. bubalis bubalis) যা ভারতীয় উপমহাদেশ ও কিছু ইউরোপ ও আমেরিকার দেশে পাওয়া যায় এবং অন্যটি হলো জলার মহিষ (B. bubalis carabanesis) যা প্রধানত বাংলাদেশ, চীন, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে পাওয়া যায়।
বিষয়  নদীর মহিষ জলার মহিষ 
বিস্তরন ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইউরোপ ও আমেরিকার কিছু দেশ। বাংলাদেশ, চীন, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যসমুহ।
ক্রোমোসোম সংখ্যা ৫০টি ক্রোমোসোম ৪৮টি ক্রোমোসোম
শিং হালকা ধূসর বর্ণের সোজা বা বাঁকানো শিং। সাধারণত পেছনের দিকে বাঁকানো বিশাল আকৃতির শিং।
রঙ কালো বা গাঢ় ধূসর বর্ণের, পা এবং মুখে সাদা ছোপ থাকে। মেটে ধূসর বর্ণের, গলার নিচে, পায়ে ও লেজের মাথায় সাদা বর্ণের একটি বা দুটি লম্বা দাগ থাকে।
পূর্ণবয়স্ক প্রাণীর ওজন ৪৫০-১,০০০ কেজি ৩২৫-৪৫০ কেজি
উৎপাদন জলার মহিষ অপেক্ষা বেশী দুধ দেয়। প্রতি ল্যাকটেশনে প্রায় ৬০০ কেজি পর্যন্ত দুধ দেয়।
প্রয়োজনীয়তা প্রধানত দুধ উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়। এছাড়া মাংস উৎপাদন ও মালামাল পরিবহনের উপযোগী। এরা সাধারণত মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এরা কম দুধ উৎপাদন করে থাকে।
ছবি
এশিয়া ও ইউরোপের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মহিষের জাত হলো-
বৈশিষ্ট্য   ছবি 
মুরাহ
  • উৎপত্তি: প্রথমে হরিয়ানার মাঝামাঝি অঞ্চলে, পরবর্তীতে সারা দেশে
  • বিস্তরন: ভারতের বিভিন্ন রাজ্য, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া এবং এশিয়ার অনেক দেশে।
  • চামড়া ও লোমের রঙঃ গাঢ় কালো রঙের, লেজে সাদা গোছা বিদ্যমান।
  • শিং: বাঁকানো ছোট শিং
  • দুধের পরিমাণ: ১,৮০০ কেজি
  • দুগ্ধদানকালের সময়: ৩০৫ দিন
  • দুধে চর্বির পরিমাণ: ৭.২%
ছবি: মুরাহ(সহযোগিতায়: Indiamart)
নিলিরাভি 
  • উৎপত্তি: রাভি নদীর তীরবর্তী এলাকা, ভারত।
  • বিস্তরন: ফিরোজপুর জেলা, পাঞ্জাব এবং শাহিওয়াল (পাকিস্তান)
  • গায়ের রঙ: গাঢ় কালো, শরীরের শেষ প্রান্তগুলো কালো। চোখ চওড়া।
  • শিং মুরাহ মহিষ অপেক্ষা কম বাঁকানো।
  • ওলান ভালো গড়নের এবং ওলানের গোড়া নাভির দিক পর্যন্ত ছড়ানো।
  • ওজন: ষাঁড়: ৭০০ কেজি
গাভী: ৬০০ কেজি
  • দুধ উৎপাদন: ২,০০০ কেজি
  • দুগ্ধদানকালের সময়: ৩০৫ দিন
  • দুধে চর্বির পরিমাণ: ৬.৫%
ছবিঃ নিলিরাভি(সহযোগিতায়: Hisarbovine)
কুন্দি
  • উৎপত্তি: ইন্দো উপত্যকা
  • বিস্তরন: দক্ষিণ পাকিস্তানের সিন্ধু এলাকা
  • গায়ের রঙ: গাঢ় কালো
  • শিং খাটো এবং গোড়া চওড়া। উপরের দিকে সরু ও ভেতরের দিকে বাঁকানো।
  • ওলান ভালো গড়নের, দুধের শিরাগুলো মোটা এবং বাঁটগুলো চারকোণায় ছড়ানো।
  • ওজন: ষাঁড়: ৭০০ কেজি
গাভী: ৬০০ কেজি
  • দুধ উৎপাদন: ২,০০০ কেজি
  • দুগ্ধদানকালের সময়: ৩২০ দিন
  • দুধে চর্বির পরিমাণ: ৭%
ছবি: কুন্দি
সুরতি 
  • উৎপত্তি: গুজরাটের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
  • বিস্তরন: ভারতের গুজরাট ও রাজস্থান জেলা
  • গায়ের রঙ: কালো বা লালচে রঙের এবং বুকে দুটি সাদা লম্বা দাগ থাকে।
  • কপাল, পা ও লেজের ডগার সাদা দাগ দেখে সহজে চেনা যায়।
  • শিং চ্যাপ্টা, মাঝারি আকারের এবং নিচের দিকে এসে পরে উপরের দিকে বাঁকানো।
  • ওলান ভালো গড়নের, দুধের শিরাগুলো মোটা  এবং বাঁটগুলো চারকোণায় ছড়ানো।
  • ওজন: ষাঁড়: ৭০০ কেজি
গাভী: ৫৫০-৬৫০ কেজি
  • দুধ উৎপাদন: ২,০৯০ কেজি
  • দুগ্ধদানকালের সময়: ৩৫০ দিন
  • দুধে চর্বির পরিমাণ: ৬.৬-৮.১%
ছবি: সুরতি(সহযোগিতায়: TradeIndia)
জাফরাবাদি
  • উৎপত্তি: গুজরাট, ভারত।
  • এটি মূলত ভারতের গুজরাটের গির জঙ্গল, কুচ এবং জমনগর জেলা থেকে বংশবৃদ্ধি করেছে।
  • গায়ের রঙ হলদেটে-কালো। কপাল, লেজ ও পায়ে সাদা বা ধূসর চিহ্ন থাকে।
  • শিং চওড়া ও বিশাল। প্রথমে নিচের দিকে নেমে পরে উপরের দিকে বেঁকে যায়। মাঝে মাঝে চোখও ঢেকে ফেলে।
  • ওজন: ষাঁড়: ৬০০-১,৫০০ কেজি
গাভী: ৭০০-৮০০ কেজি
  • দুধ উৎপাদন: ১,৮০০-২,৭০০ কেজি
  • দুগ্ধদানকালের সময়: ৩৫০ দিন
  • দুধে চর্বির পরিমাণ: ৮.৫%
ছবি: জাফরাবাদি(সহযোগিতায়: ExportersIndia)
ভূমধ্যসাগরীয় মহিষ
  • উৎপত্তি: ভারত
  • ইতালি থেকে প্রধানত সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে
  • ধূসর লোমসহ মাঝারি আকৃতির
  • গায়ের রঙ কালো , কালো ও বাদামী এবং কালচে ধূসর।
  • শিং গোড়ার দিকে চ্যাপ্টা। প্রথমে পেছনে বেঁকে যায় এবং পরে শিং এর মাথা উপরে উঠে ভেতরের দিকে বেঁকে যায়।
  • ওজন: ষাঁড়: ৫০০-৬০০ কেজি
গাভী: ৩০০-৪৫০ কেজি
  • দুধ উৎপাদন: ৯০০-৪,০০০ কেজি
  • দুগ্ধদানকালের সময়: ২৭০ দিন
  • দুধে চর্বির পরিমাণ: ৮%
ছবি: ভূমধ্যসাগরীয় মহিষ
বাংলাদেশি মহিষ
  • প্রধানত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাওয়া যায়।
  • দেহ মাঝারি গড়নের ও কালো রঙের। কপাল ও লেজের ডগায় সাদা দাগ থাকে।
  • শিং মাঝারি থেকে বড় আকারের হয়। শিং পেছনের দিকে গিয়ে বাইরের দিকে বেঁকে যায়।
  • ওজন: ৪২৭ কেজি
  • দুধ উৎপাদন: ৬২০ কেজি
  • দুধে চর্বির পরিমাণ: ৬.৮-১৩.২%
ছবি: বাংলাদেশি মহিষ(সহযোগিতায়: সঞ্জীব চন্দ্র নাথ)

১.৪ অভ্যাস 

খাদ্যাভ্যাস: মহিষ প্রধানত চারণ প্রাণী এবং এটি সাধারণত দিনের বেলায় চরে বেড়ায়। রাতে জাবর কাটা ও ঘুমানোই এদের অভ্যাস। এরা নিম্ন মানের ঘাসকেও উচ্চ শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এরা খাওয়াতে কম সময় নিলেও দীর্ঘ সময় ধরে জাবর কাটে, গরুর তুলনায় বেশি বিশ্রাম নেয়।
তাপ সহনশীলতা ও পানিতে ডুবে থাকার অভ্যাস: মহিষ অধিক তাপ ও ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারে না। এদের অধিক মেলানিন সমৃদ্ধ মোটা চামড়া থাকে যা শরীরের কালো রঙের জন্য দায়ী। এই মোটা ও কালো চামড়া খুব ভালো তাপ শোষণ করে এবং শরীরের তাপ বের হতেও বাধা দেয়। এছাড়াও এদের শরীরে কম পরিমাণে ঘর্মগ্রন্থি ও লোম থাকায় তাপ কম পরিমাণে শরীর হতে বের হতে পারে। এ সকল কারণে মহিষের পানিতে ডুবেথাকার অভ্যাস রয়েছে যেটি এরা নিজেরাই শিখে নিয়েছে। মহিষ গরম ও ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় পানিতে ডুবেথাকে। এটি এদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ও তাপজনিত ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া পানিতে ডুবেথাকার অভ্যাসের কারণে এরা পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকেও বেঁচে থাকে।
সামাজিক অভ্যাস: অন্যান্য গবাদিপশুর মতই মহিষের দলে ষাঁড়, দুগ্ধবতী বা দুধ দেয়া বন্ধ হয়েছে এমন গাভী, বকনা ও বাছুর থাকে। এরা বিভিন্ন শারীরিক অঙ্গভঙ্গি, শব্দ, স্পর্শ ও গন্ধের মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকে। মহিষরা ঘ্রাণশক্তির মাধ্যমে একে অপরকে চিনতে পারে। এরা গাছের গায়ে নিজেদের শরীর ঘষে শরীরের গন্ধ রেখে এমনকি মলের মাধ্যমেও নিজেদের এলাকা চিহ্নিত করে রাখে। গাভীগুলো দ্রুতই নিজেদের বাছুরদের চিনে নেয়। এরা সাধারণত নিজের ছাড়া অন্য বাছুরদের ওলানের কাছে আসতে দেয় না। মা ও বাছুর দুজনই মুখের আওয়াজের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে থাকে।

১.৫ মহিষের উপকারিতা 

দুধ উৎপাদন: মহিষ পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রধান দুধ উৎপাদনকারী প্রাণী। কিন্তু কিছু দক্ষিণ এশীয় দেশ যেমন ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল এর মত দেশগুলোর মোট দুধ উৎপাদনে মহিষের দুধের অবদান গরুর চেয়েও বেশী। মহিষের দুধের পুষ্টিমান যেমন আমিষ, ভিটামিন ও খনিজ লবণ গরুর চেয়েও বেশী। এছাড়াও এতে অন্যান্য উপকারী উপাদান থাকে যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা প্রদান করে এবং হাড়ের গঠন ও হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখে। মহিষের দুধের উচ্চ দানাদার উপাদান ও চর্বি বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য যেমন দই ও পনির তৈরিতে সাহায্য করে।
মাংস উৎপাদনে: মহিষের মাংস অনেক দেশে খুবই জনপ্রিয়। এশিয়াতে প্রায় সারা পৃথিবীর ৯০.৫% মহিষের মাংস উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে ভারত প্রায় ১.৬ মিলিয়ন টন ও পাকিস্তান ০.৯৩ মিলিয়ন টন মাংস উৎপাদন করে থাকে। বিভিন্ন দেশে মহিষের মাংস বিভিন্ন নামে পরিচিত। কিছু কিছু জায়গায় যেমন ভারত ও নেপালে এটি রেড বিফ, অন্য কিছু দেশে এটি কারাবিফ নামে পরিচিত। এটি গরুর মাংসের তুলনায় পাতলা ও উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ কিন্তু কম চর্বি, কোলেস্টেরল ও ক্যালরি থাকে। এই অনন্য পুষ্টিমানের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্য সচেতন দেশে মহিষের মাংসের বেশ চাহিদা রয়েছে।
শারীরিক পরিশ্রমের কাজে: শক্তিশালী শারীরিক গড়নের জন্য শত শত বছর ধরে মহিষকে পরিশ্রমী প্রাণী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এরা প্রধানত জমিতে লাঙল দেয়া, ধানের জমি কর্ষণে, জমি সমতল করা, জমি প্রস্তুত করা,মালগাড়ি টানা, নৌকার গুন টানার কাজে ব্যবহৃত হয়। শক্তিশালী লম্বা পা এদের সমানভাবে টানতে সাহায্য করে। এরা লোকজনও বহন করে, শস্য মাড়াই, আখ মাড়াই, গাছের গুঁড়ি টানার কাজেও ব্যবহৃত হয়। বড় খুর থাকায় পানি বা কর্দমাক্ত স্থানে অন্যান্য পরিশ্রমী প্রাণিদের চেয়ে মহিষ অধিকতর কাজ করতে পারে। এদের পা ভেজা ও কর্দমাক্ত পরিবেশে গরুর তুলনায় অধিক সময় কাজ করতে সক্ষম।
References
  1. N. Mingala, M. A. Villanueva and L. C. Cruz, "River and Swamp Buffaloes: History, Distribution and their Characteristics," in The Buffalo (Bubalus bubalis) - Production and Research, Bentham Science Publishers, 2017, pp. 3-31.
  2. Zhang, L. Colli and J. Barker, "Asian water buffalo: domestication, history and genetics," Animal Genetics, vol. 51, 2020.
  3. Naveena, M. Kiran, R. Banerjee and M. Muthukumar, "Water buffalo," Elsevier Ltd., 2022, pp. 1-20.
  4. FAO, "FAOSTAT 2018," 2018. [Online].
  5. Mathivanan, "Breeds of Buffaloes," TNAU, 2014. [Online]. Available: https://agritech.tnau.ac.in/animal_husbandry/animhus_buffalo%20breeds.html.
  6. Z. M. Minervino, D. Vecchio and B. Antonio, "Bubalus bubalis: A Short Story," Frontiers in Veterinary Science, vol. 7, 2020.
  7. WR, "The water buffalo: a review," British Veterinary Journal, vol. 137, p. 8–10, 1981.
  8. Wanapat, K. Sommart, C. Wachirapakorn, S. Uriyapongson and C. Wattanachant, "Recent advances in swamp buffalo nutrition and feeding," in 1st Asian Buffalo Association Congress, Khon Kaen University, Khon Kaen, 1994.
  9. Bilal, M. Suleman and A. Raziq, "Buffalo: black gold of Pakistan," Livestock research for rural development, vol. 18, no. 9, pp. 140-151, 2006.
  10. Singh, "The Beef About Buff," Outlook (India), 2016. [Online]. Available: https://www.outlookindia.com/magazine/story/the-beef-about-buff/297825/.
  11. Hill, Cattle and Buffalo Meat Production in the Tropics, Longman Scientific & Technical, 1988.

২.১: আবাসন ও পালন ব্যবস্থা

সারা বিশ্বে মহিষ পাঁচ পদ্ধতিতে পালন করা হয়- বাথান বা উন্মুক্তভাবে পালন পদ্ধতি, গৃহস্থালি পদ্ধতি, আধা-বাথান পদ্ধতি, আধা-আবদ্ধ বা অর্ধ-নিবিড় পদ্ধতি এবং আবদ্ধ বা নিবিড় পদ্ধতি। ২.১.১ বাথান বা উন্মুক্তভাবে পালন পদ্ধতি
মহিষ পালনের সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হল বাথান বা উন্মুক্তভাবে পালন পদ্ধতি। বিশ্বের অধিক সংখ্যক মহিষ এশিয়াতে পাওয়া যায়; তাই বাথান পদ্ধতি এখানে সবচেয়ে সাশ্রয়ী। এ পদ্ধতিতে মহিষের জন্য কোন ঘর তৈরি করা হয় না, বরং সারা বছর উন্মুক্ত অবস্থাতেই রাখা হয়। এই পদ্ধতিতে, বিশেষ করে বাংলাদেশের উপকূল, নদী অববাহিকা এবং চরাঞ্চলগুলোতে খোলা জায়গায় ৫০-২০০ মহিষ পালন করা হয়। খামারিরা মহিষ শাবকগুলোকে বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখে যা “কিল্লা (উঁচু জায়গা) ” নামে পরিচিত। এটি মহিষ শাবকগুলোকে রাতের বেলায় শিকারি পশু, বন্যা ইত্যাদি থেকে রক্ষা করে।
সুবিধা::
  • এরা প্রাকৃতিক পরিবেশে চরে বেড়ায়, ফলে স্বাভাবিক আচরণ প্রকাশ করতে পারে, যেমন, নদী বা খালের পানিতে ডুবে থাকতে পারে।
  • মহিষের খাদ্যের যোগান দিত হয় না বিধায় খরচ কম।
  • কোন আশ্রয়ের প্রয়োজন হয় না।
অসুবিধা::
  • শুকনো মৌসুমে খাদ্য ও সুপেয় পানির স্বল্পতা থাকে।
  • নিবিড় পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয় না।
  • চিকিৎসা ও পরিবহণ সংকট প্রবল।
  • আশ্রয়স্থল না থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে মহিষের মৃত্যু হয়।
  • স্বাস্থ্যসম্মতভাবে দুধ দোহন সম্ভব হয় না।
  ২.১.২ গৃহস্থালি  পদ্ধতি:
এই পদ্ধতিতে মহিষগুলোকে দুধ দোহানোর সময় খামারির ঘরের খোলা উঠানে রাখা হয় এবং দোহানোর পর সারা দিনের জন্য ছেড়ে দেয়া হয়। খামারিরা বিকেলে মা থেকে বাছুর আলাদা করে ফেলা হয়। মহিষগুলোকে খড় ও মাঝে মাঝে সামান্য দানাদার খাদ্য দেওয়া হয়। কোন কোন সময় মহিষগুলোকে ইট বা টিনের তৈরি ঘরে রাখা হয়।
সুবিধা:
  • এই পদ্ধতিতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয়।
  • চিকিৎসা সুবিধা সহজে দেয়া যায়।
  • বাস্থ্যসম্মতভাবে দুধ দোহন সম্ভব হয়।
  অসুবিধা:
  • খামারিকে  খাদ্য সরবরাহের ব্যাপারে সচেতন হতে হয়।
  • Eঘর তৈরিতে টাকা খরচ হয়।
২.১.৩ আধা-বাথান পদ্ধতি:
এটি মূলত বাথান ও ঘরোয়াভাবে পালনের সমন্বিত রূপ। এই ক্ষেত্রে বাথান পদ্ধতির মতো বছরের বেশির ভাগ সময় মহিষগুলোকে খোলা মাঠ বা চরে উন্মুক্ত ভাবে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু বর্ষার সময় এদেরকে মূল ভূখণ্ডে খামারির বাড়ির কাছাকাছি জায়গায় ফিরিয়ে আনা হয়।
সুবিধা:
  • খাবার দিতে হয় না বলে খরচ কম হয়।
  • কোন আশ্রয়ের দরকার হয় না।
  • এরা প্রাকৃতিক পরিবেশে চরে বেড়ায়, ফলে স্বাভাবিক আচরণ যেমন নদী বা খালের পানিতে ডুবে থাকতে পারে।
অসুবিধা:
  • শুকনো মৌসুমে খাদ্য ও সুপেয় পানির স্বল্পতা থাকে।
  • নিবিড় পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয় না।
  • চরে থাকা অবস্থায় চিকিৎসা ও পরিবহণ সংকট থাকে।
  • মূল ভূখণ্ডে আনার সময় পরিবহনে অনেক টাকা খরচ হয়।
  • আশ্রয়স্থল না থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে মহিষের মৃত্যু হয়।
  • স্বাস্থ্যসম্মতভাবে দুধ দোহন সম্ভব হয় না।

ছবি ২.৩: মূল ভূখণ্ডে আংশিক ছাড়া পদ্ধতি (ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

২.১.৪  আবদ্ধ বা নিবিড় পদ্ধতিতে পালন
এই পদ্ধতিতে মহিষগুলোকে সব সময় খামারে আবদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়। খামারিরা নিজে মহিষগুলোকে খাবার ও পানি সরবরাহ করে। পানিতে ডুবে থাকার অভ্যাসের কারণে যাতে মহিষগুলোর সমস্যা না হয় এজন্য খামার প্রাঙ্গনে মহিষগুলোকে গোসল করানো হয়।
সুবিধা:
  • প্রাণীগুলোকে নিবিড়ভাবে দেখাশুনা করা সম্ভব হয়।
  • স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে দুধ দোহানো সম্ভব হয়।
  • সঠিকভাবে তথ্য রাখা সম্ভব হয়।
  • রোগাক্রান্ত প্রাণীকে চিকিৎসা দেয়া সুবিধাজনক।
অসুবিধা:
  • মহিষগুলো তাদের স্বাভাবিক অভ্যাস যেমন পানিতে ডুবে থাকতে পারে না।
  • অধিক সংখ্যক প্রাণী নিবিড়ভাবে থাকার ফলে রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী হয়।
   

ছবি ২.৪: আবদ্ধ বা নিবিড় পদ্ধতিতে পালন (আডার হেল্‌থ বাংলাদেশ থেকে সংগৃহীত)

  ২.১.৫  আধা-আবদ্ধ বা অর্ধ-নিবিড় পদ্ধতিতে পালন 
এই পদ্ধতিতে মহিষগুলোকে সকালে উন্মুক্তভাবে চরতে দেয়া হয় এবং খামারে এদেরকে দানাদার ও ঘাস জাতীয় খাবার সরবরাহ করা হয়। খামারে স্প্রেয়ার এর সাহায্যে বা  খামারের বাইরে পুকুরের মাধ্যমে মহিষগুলোর পানিতে ডুবে থাকার ইচ্ছা পূরণ করা হয়।
সুবিধা:
  • নিবিড় ও সুক্ষ্মভাবে দেখাশুনা সম্ভব হয়।
  • স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে দুধ দোহানো সম্ভব হয়।
  • সঠিকভাবে তথ্য রাখা সম্ভব হয়।
  • রোগাক্রান্ত প্রাণীকে চিকিৎসা দেয়া সুবিধাজনক।
  • এই পদ্ধতিতে মহিষ খোলা মাঠে চরে বেড়াতে পারে।
অসুবিধা:
  • অধিক সংখ্যক প্রাণী নিবিড়ভাবে থাকার ফলে রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী হয়।

২.২ মহিষের খামারে ঘর নির্মাণ পদ্ধতি

ঘর মহিষগুলোকে বৈরি আবহাওয়া, যেমন, বৃষ্টি, প্রচণ্ড গরম, ঠাণ্ডা ইত্যাদি এবং বন্য পশু থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও ভালোভাবে দেখাশুনা ও যত্ন করার ক্ষেত্রেও এটি সুবিধাজনক। ঘর অবশ্যই আরামদায়ক, টেকসই ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পন্ন হতে হবে এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে দুধ উৎপাদনের উপযোগী হতে হবে। একটি মহিষের ঘর তৈরিতে নূন্যতম কিছু ব্যবস্থা দরকার যা খামার পরিচালনাকে সহজতর করবে। সেগুলো হল:
  • প্রাচীর বা দেয়াল: দেয়াল তিন দিক দিয়ে ঘেরা এবং পাঁচ ফুট উঁচু হতে হবে। খোলা অংশে খাবারের পাত্র থাকবে।
  • খাবারের পাত্র: মহিষ যাতে দ্রুত এবং পর্যাপ্ত খাবার খেতে পারে এমনভাবে খাবারের পাত্র নির্মাণ করতে হবে। এটি অবশ্যই চওড়া (লম্বায় ৫ ফুট), পিচ্ছিল নয় এমন, সামান্য ঢালু ও সহজে পরিষ্কার করা যায় এমন হতে হবে। খাবারের পাত্র নির্মাণের প্রয়োজনীয় পরিমাপ নিচে দেয়া হলো।
  ছক ২.১ মহিষের ঘরে খাবারের পাত্র নির্মাণের জায়গার পরিমাপ
শ্রেণী  প্রাপ্তবয়স্ক  বাছুর 
মাটি থেকে ভেতরের দেয়াল ৫০ সে.মি. ২০-২৫ সে.মি.
গভীরতা ≤৪০ সে.মি. ≤২০ সে.মি.
জায়গার পরিমাপ ২.৫-৩ ফুট/মহিষ ১.৫ ফুট/বাছুর
  ২.২.১    জায়গার পরিমাপ ছক ২.২ মহিষের জন্য জায়গার (মেঝে) পরিমাপ
প্রাণীর ধরণ  মেঝের পরিমাণ/মহিষ (স্কয়ার ফুট)  খাবারের পাত্রের দৈর্ঘ্য (ফুট) 
ঢাকা খোলা
পূর্ণবয়স্ক ৩০-৪০ ৮০-১০০ ২.৫
গর্ভবতী মহিষ ১০০-১২০ ১৮০-২০০ ২.৫
ষাঁড় ১২০-১৪০ ২০০-২৫০ ২.৫
বাছুর ২০-২৫ ৫০-৬০ ১.৫

২.৩ পানিতে ডুবে থাকার অভ্যাস

গায়ের রঙ কালো এবং খুব কম সংখ্যক ঘর্মগ্রন্থি থাকায় গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মহিষের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এ সমস্যা সমাধানে এদেরকে পানিতে ডুবে থাকতে। এরা মূলত কাদামাটিতে বা পানিতে গড়াগড়ি করে অথবা ডুবে থাকে। এটা গরম আবহাওয়া ও বহিঃপরজীবীর (এঁটুলি, মাছি, মশা, উকুন ইত্যাদি) বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। অন্যান্য প্রাণীর ঘাম বের হয়ে শরীর ঠাণ্ডা হওয়ার যে প্রক্রিয়া মহিষের ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিতে ডুবে থাকা একই রকম কাজ করে থাকে। ভারতীয় উপমহাদেশের মহিষগুলো পরিষ্কার ঝর্ণা বা ডোবার পানিতে ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকে। অন্য দিকে চীন বা দক্ষিণ এশিয়ার মহিষগুলো কাদাযুক্ত পানিতে ডুবে থাকতে পছন্দ করে। আর্দ্রতা বেশী থাকায় শীতের সময়ও মহিষ পানিতে ডুবে থাকে বা কাদায় গড়াগড়ি খায়।

ছবি ২.৫:  মহিষের পানিতে ডুবে থাকার অভ্যাস

মহিষ প্রয়োজনের তাগিদে সময়ের সাথে ধীরে ধীরে পানিতে ডুবে থাকার অভ্যাস অর্জন করে। কাদা বা পানি না থাকলে মহিষ অনেকটাই গরুর মত আচরণ করে। এ সময়ে এরা ছায়ায় আশ্রয় নেয় এবং দিনের গরম সময়ের তুলনায় ঠাণ্ডা সময়ে চড়ে বেড়ায়। নিবিড় পালন পদ্ধতিতে খামারি ঘরের পাশাপাশি পাখার ব্যবস্থা করে, প্রচুর পানি সরবরাহ করে এবং শক্তিযুক্ত খাদ্য ও বাইপাস আমিষ যেমন ফিস মিল দিয়ে থাকে।

খামারিরা মহিষগুলোকে রাতেও চড়তে দেয় যা এদেরকে শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের করে দিতে সাহায্য করে। এছাড়াও মহিষগুলোকে কৃত্তিম ঝর্ণা দ্বারা পানি ছিটানো হয় যা শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

২.৪ খাদ্য ও পুষ্টি

২.৪.১ খাদ্যাভ্যাস আঁশজাতীয় খাবার ও আমিষ হজমের ক্ষেত্রে অন্যান্য গৃহপালিত তৃণভোজীর (গরু, ছাগল ও ভেড়া) তুলনায় মহিষের হজম ক্ষমতা অনেক বেশী। এরা কম মানের খাদ্য ও ঘাসকে খুব ভালো মানের পুষ্টিতে পরিবর্তন করতে পারে। মহিষের রুমেন বিশাল আকারের এবং এর মধ্যকার তরল খুব কম পরিমাণে নিঃসরণ হলেও তাতে অধিক পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া থাকে। মহিষ নিম্ন মানের ঘাস জাতীয় খাবার যেমন ধানের খড়, গমের খড় এবং ঘাসকে (যা মূলত গরুর ঘাস খাওয়ার পর উচ্ছিষ্ট অবস্থায় থাকে) খেতে পারে এবং গরু ও অন্যান্য তৃণভোজীর তুলনায় অধিক ওজনের হয় ও দৈনিক বেশী পরিমাণে দুধ দিতে পারে। এ জন্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের খামারিরা তাদের মহিষের জন্য সহজে অনেক খাদ্যের যোগান দিতে পারে। বলা হয়ে থাকে যে, "আপনার খামারে যদি চার ভাগের তিন ভাগ গরু থাকে, আপনি তাদের উচ্ছিষ্ট খাবার দিয়ে একটি মহিষ পালতে পারবেন।    

ছবি ২.৬: গৃহস্থালি পদ্ধতিতে একটি মহিষকে খাবারের যোগান দেয়া হচ্ছে (খড়)

 

মহিষের জন্য চার ধরনের খাদ্য পদ্ধতি রয়েছে। সেগুলো হল-

১. উন্মুক্ত বা বাথান পদ্ধতি: মহিষরা সারা বছর খোলা মাঠে উন্মুক্ত ভাবে ঘুরে বেড়ায়।  এ পদ্ধতিতে অতিরিক্ত কোন খাবার দেয়া হয় না।

২. গৃহস্থালি ব্যবস্থা: গৃহপালিত মহিষকে একটি খুঁটিতে বেঁধে সারাদিন প্রাকৃতিক চারণভূমিতে বা মাঠে বা রাস্তার ধারের ঘাসে চরতে দেয়া হয়। সন্ধ্যার পর মহিষগুলোকে বাড়িতে নিয়ে এসে খড় দেয়া হয়। গর্ভবতী ও দুধের মহিষগুলোকে সামান্য দানাদার খাবার দেয়া হয়।

৩. আধা-বাথান বা অর্ধ-উন্মুক্ত পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে মহিষগুলো প্রায় এক বছর (৭-৮ মাস) খোলা মাঠে অবাধে চরে বেড়ায়। কিন্তু বর্ষাকালে সেগুলোকে ঘরে ফিরিয়ে আনা হয়। এই সময় খামারিরা মহিষগুলোকে ঘাস ও ফসলের অবশিষ্টাংশ সরবরাহ করে।

৪. নিবিড় পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে মহিষগুলো খামারের ভেতরেই থাকে এবং মাঠে চরে বেড়ানো হয় না। প্রয়োজনমত ঘাস ও দানাদার খাবার সরবরাহ করা হয়।

৫. আধা-নিবিড় পদ্ধতি: খামারে থাকা অবস্থায় মহিষগুলোকে ঘাস ও দানাদার খাদ্য দেয়া হয়। সকালে দুধ দোয়ানোর পর এরা খোলা জায়গায় চরতে পারে।

২.৪.২ খাদ্য উপাদান/ গঠন:

মহিষকে প্রতিদিন ঘাস জাতীয় খাবার যেমন ধানের খড়, গমের খড়, ভুট্টার ডাঁটা ও সবুজ ঘাস দেয়া হয় যা সস্তা ও সহজে পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এমন কিছু খাবারের উৎস যেমন আখের ডগা, কাসাভার মূল এবং আলুর লতা ইত্যাদি অপ্রচলিত খাদ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তৃণভোজী রোমন্থক প্রাণীরা তাদের দৈনিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে অণুজীবের গাঁজন প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে। অন্যান্য তৃণভোজীর তুলনায় মহিষের রুমেন অধিক পরিমাণে নাইট্রোজেন ও শর্করা হজম করতে পারে, যার ফলে খাবারে আমিষের পরিমাণ কম থাকলেও রুমেনের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ও নতুন করে জন্মাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এদের গরুর তুলনায় কম নাইট্রোজেন সরবরাহের প্রয়োজন হয়। এরা কিডনীতে অধিক পরিমাণে নাইট্রোজেন ছাঁকনে বাধা দেয় এবং সেই নাইট্রোজেনকে ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্যের নাইট্রোজেনের পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করে। মহিষের খাদ্যে ৩০ শতাংশেরও কম দানাদার খাদ্যের (যেমন, গমের ভুষি, ধানের ভুষি, চালের কুড়া) প্রয়োজন হয়। একটি বাড়ন্ত মহিষের (২৫০ কেজি) খাদ্যের সাধারণ নিয়মে প্রত্যেক মহিষের জন্য ২ কেজি দানাদার, ৭৫০ গ্রাম আমিষ ও পর্যাপ্ত ঘাস দিলে সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়।

২.৫ প্রজনন

২.৫.১ মহিষের প্রজনন বৈশিষ্ট্য

স্ত্রী মহিষ:

নির্ণায়ক  মান 
ঋতুকালের ধরণ কম সময়ের মৌসুমি ঋতুবর্তী প্রাণী
বয়ঃসন্ধিকাল ২৬-৩৬ মাস (গড়ে ২৪ মাস)
গর্ভাবস্থার সময়কাল ৩০০-৩২০ দিন
দুধ শুকানোর সময়কাল (ড্রাই পিরিয়ড) ৬.-১২০ দিন
দুধদানের সময় ২৭০ দিন (গড়ে)
ঋতুচক্র ১৬-৩৩ দিন (সর্বোচ্চ ২১-২৪ দিন)
ঋতুচক্রের সময় ৫-২৭ ঘণ্টা (গড়ে ২০ ঘণ্টা)
ডিম্বপাত ঋতু শুরুর ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অথবা ঋতু শেষ হবার ৬-২১ ঘণ্টা পর
ঋতুবিহীন সময় ২৫-৪৮ দিন (শরৎকাল) ৫৭-১৮৬ দিন (গ্রীষ্মকাল)
বাচ্চা দেয়ার সময় সারা বছর তবে বর্ষাকালে বেশি (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) এবং এরপর শীতকাল (অক্টোবর থেকে জানুয়ারি)

অন্যান্য:

  • গরম হওয়া বা হিটে আসার লক্ষণ:
  • জরায়ু টানটান ও স্ফীত হয়ে থাকে।
  • ভাল্ভা (যোনীপথ) হতে পরিষ্কার ও আঠালো মিউকাস বের হয় যা পরবর্তীতে ঘোলাটে ও অস্বচ্ছ হয়ে যায়। (দেখুন- মহিষের গরম হওয়ার লক্ষণসমূহ)
  • মহিষের ভাল্ভায় (যোনীপথ) গরুর তুলনায় অধিক রঞ্জক পদার্থ থাকে। প্রজনন অঙ্গ অধিক টান টান এবং  হালকা, দৃঢ় ও প্যাঁচানো হয়।
  • মহিষ সাধারণত তিন বছরে দুইটি বাচ্চা দেয়।

পুরুষ মহিষ (ষাঁড়):

  • প্রজননক্ষম হওয়ার বয়স:  ২২-২৪ মাস বয়স।
  • গরুর তুলনায় মহিষের অণ্ডকোষ, অন্যান্য যৌনাঙ্গ এবং লিঙ্গ ছোট হয়ে থাকে।
  • পুরুষ মহিষের যৌন লক্ষণসমূহ ষাঁড় গরুর মত হলেও কিছুটা কম প্রকট হয়।
  • পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মহিষ গরম অবস্থায় স্ত্রী মহিষের কাছে আসলে ফ্লেহম্যান নামক লক্ষণ দেখায়। পুরুষ মহিষটি সাধারণত মুখ হাঁ করে থাকে, ঘাড় উপরের দিকে করে উপরের ঠোঁট সামনের দিকে করে থাকে। দেখতে এমন মনে হয় যে মহিষটি নাক ও মুখ দিয়ে শ্বাস বা কোন কিছু চুষে নিচ্ছে। এই সময় পুরুষটি স্ত্রী মহিষটির ভাল্ভা (যোনীপথ) চাটতে থাকে। একই সাথে পুরুষ মহিষটি আলতোভাবে লিঙ্গ নড়াচড়া করে, লিঙ্গ চামড়া হতে কয়েক সেন্টিমিটার বের হয়ে থাকে।

২.৫.২ মহিষের গরম হওয়া চিহ্নিত করা

মহিষকে প্রাকৃতিক বা কৃত্তিম উপায়ে বীজ বা সিমেন দেয়ার জন্য মহিষ গরম হয়েছে বা ঋতুবর্তী কিনা তা বুঝতে পারা খামারির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  কিন্তু মহিষ গরম হলেও কম লক্ষণ প্রকাশ করে, নীরবে গরম হয় (চোরা ডাক), কম আওয়াজ করে এবং অনিয়মিত ভাবে গরম হয়। গরম আবহাওয়ার প্রতি সংবেদনশীল হওয়ায় এদের যৌন লক্ষণ রাতের বেলায় সর্বোচ্চ থাকে। বিষুব রেখা থেকে দূরে অবস্থিত দেশগুলোর মহিষ মৌসুমী (নির্দিষ্ট সময়ে) যৌন লক্ষণ দেখায়। বেশিরভাগ মহিষ গ্রীষ্মের তুলনায় শীতকালে অধিক গরম হয়। গ্রীষ্মকালে গরম হওয়া খামারিরা বুঝতে পারে না, গরম হওয়ার লক্ষণ কম প্রকাশ পায় বা পায় না। গ্রীষ্মমন্ডলীয় ও প্রায় গ্রীষ্মমন্ডলীয় এলাকায় মহিষ প্রধানত শেষ রাত্রে বা খুব ভোরে গরম হয়। অধিকাংশ সময় খামারিরা কিছু লক্ষণ দেখে মহিষের গরম হওয়া বুঝতে পারে। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে যোনীপথ হতে তরল পদার্থ বের হওয়া, জোরে ডাকাডাকি করা, যোনী ফুলে যাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব করা, অস্থিরতা ও দুধের বাঁট ফুলে ওঠা। বড় মহিষের পালে খামারিরা স্ত্রী মহিষের গরম হওয়া চিহ্নিত করতে পুরুষ মহিষ (টিজার বুল) ব্যবহার করে। টিজার বুল হলো প্রজননে অক্ষম পুরুষ মহিষ। টিজার বুলের যৌনমিলনে অংশগ্রহণ স্ত্রী মহিষের গরম হওয়ার শুরু ও শেষ হওয়ার সময়কে নির্দেশ করে থাকে।

লক্ষণ ব্যতীত গরম হওয়া বুঝতে পারার অন্যান্য পদ্ধতিগুলো হলো যোনী থেকে নিঃসৃত তরল পদার্থের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা, প্লাজমা ও দুধে হরমোনের পরিবর্তন চিহ্নিত ও নির্ধারণ করা,  শরীরের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা এবং শারীরিক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তন পরিমাপ করা।

গরম হওয়া নির্ধারণের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি হল রেক্টামে (পায়ুপথে) হাত দিয়ে পরীক্ষা ও রেক্টামে (পায়ুপথ) আলট্রাসনোগ্রাফি করা। এছাড়াও পরীক্ষাগারে জরায়ুর সারভিক্স থেকে নিঃসৃত মিউকাসও পরীক্ষা করে গরম হওয়া চিহ্নিত করা যায়। এই পদ্ধতিগুলো খামারিদের প্রত্যেকটি মহিষের অবস্থা পর্যবেক্ষণে সাহায্য করে যদিও বড় মহিষের দলে প্রতিদিন এই ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা বাস্তবিকভাবে কার্যকর নয়।

কিছু নতুন রাসায়নিক পরীক্ষা যেমন মুখের লালার ইলেক্ট্রোলাইটস (আয়নসমূহ) ও যোনীর মিউকাস, প্রস্রাব ও পায়খানার রাসায়নিক ফেরোমন নির্ণয় ইত্যাদির মাধ্যমেও মহিষের গরম হওয়া চিহ্নিত করা যায়।  এই পদ্ধতিগুলো মহিষের গরম হওয়া চিহ্নিতকরণে আশার আলো দেখাচ্ছে এবং খুব দ্রুতই সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে।

২.৫.৩ মহিষের প্রজনন পদ্ধতি

মহিষ পলিয়েস্ট্রাস প্রাণী এবং সারা বছরই প্রজনন করতে পারে কিন্তু বৃষ্টিপাত, খাদ্য, পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা ও দিবাদৈর্ঘ্য বছরে বাচ্চা দেয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

সাধারণত মহিষের প্রজনন দুইটি পদ্ধতিতে হয়- প্রাকৃতিক ও কৃত্তিম পদ্ধতি।

  • প্রাকৃতিক প্রজনন পদ্ধতি: ষাঁড় দিয়ে পাল দেয়াই হল প্রাকৃতিক প্রজনন পদ্ধতি। এটি সারা বিশ্বে মহিষ প্রজননের সাধারণ পদ্ধতি। ষাঁড় স্ত্রী মহিষ গরম থাকা অবস্থায় প্রজননে অংশ নেয়, স্ত্রী মহিষের গায়ের ওপর ওঠে এবং এর জরায়ুতে বীর্যপাত করে। খামারিরা নিজেদের ষাঁড় এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকে।
  • কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি: প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরুষ ও স্ত্রী জনন কোষের মিলনকে কৃত্তিম প্রজনন পদ্ধতি বলে।

২.৫.৩.১ কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিসমূহ

প্রাণীতে কৃত্তিম প্রজননের অনেকগুলো পদ্ধতি রয়েছে। তবে মহিষে খুব কম সংখ্যক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে কিছু হলো-

ছবি ২.৭ মহিষে কৃত্তিমভাবে বীজ প্রদান (এ. আই.) (ছবি- ওয়েব থেকে সংগৃহীত)

  • কৃত্রিম প্রজনন (এ. আই.): এ ক্ষেত্রে পুরুষের শুক্রাণু স্ত্রীর যৌনাঙ্গে (বিশেষ করে জরায়ুতে) নির্ধারিত সময়ে যন্ত্র দ্বারা (এ. আই. গান, ভ্যাজাইনাল স্পেকুলাম) প্রতিস্থাপন করা হয় । এই পদ্ধতি ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীন, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও অন্যান্য দেশগুলোতে ব্যবহার করা হয়। নির্দিষ্ট জাত দ্বারা প্রজনন, প্রাণীর জাত উন্নয়ন এবং ষাঁড়ের বন্ধ্যাত্ব সমাধানে এই পদ্ধতি বহুল ব্যবহৃত। মহিষের কৃত্রিম প্রজননের (এ. আই.) সুবিধাসমূহ হল-
    • প্রজননক্ষম ষাঁড়ের প্রয়োজন হয় না। এছাড়াও ষাঁড় পালনের খরচও কমে যায়।
    • এটি কিছু যৌনরোগ (ব্রুসেলোসিস, ট্রাইপেনোসোমিয়াসিস ইত্যাদি) ছড়ানো প্রতিহত করে এবং খামারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
    • নিয়মিত বীর্য পরীক্ষা ষাঁড়ের উর্বরতা নির্ধারণে সাহায্য করে যা পরবর্তীতে দুর্বল ষাঁড় দ্রুত চিহ্নিত করা এবং জাত উন্নয়নের জন্য উন্নত প্রজনন নীতি তৈরিতে সহায়তা করে।
    • কম বয়সে জাত নির্ধারণ (প্রজেনি টেস্টিং) সহজ হয়।
    • ভালো জাতের ষাঁড় মারা গেলেও বহুদিন পর্যন্ত এর বীর্য ব্যবহার করা যায়।
    • এটি প্রজননের সময় শারীরিকভাবে আহত হওয়া থেকে বিরত রাখে। এছাড়া নির্দিষ্ট আকারের ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের স্ত্রী মহিষের সাথে একই ধরনের ষাঁড়ের প্রজনন করতে সাহায্য করে।
    •  সঠিকভাবে প্রজনন ও বাছুরের তথ্য রাখতে সাহায্য করে।
    • বয়স্ক, বেশি ওজনের ও আহত কিন্তু উন্নত জাতের এমন ষাঁড় দিয়েও প্রজনন ঘটাতে সাহায্য করে।
    • ভ্রূণ স্থানান্তর প্রযুক্তি: এই প্রযুক্তিতে ভ্রূণ নেয়ার জন্য একটি উন্নত জাতের স্ত্রী মহিষকে জন্য নির্ধারণ করা হয়। এই স্ত্রী মহিষটি অন্য আরেকটি স্ত্রী মহিষকে তার ডিম্বাণু দান করে। ভ্রূণটি বাইরের পরিবেশে নিষিক্ত ও পরিপক্ক হওয়ার পর একটি জীবন্ত পরিপূর্ণ মহিষের বাচ্চা হওয়ার জন্য গ্রহীতা মহিষের জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।

    এই প্রযুক্তিতে উন্নত বৈশিষ্ট্যের স্ত্রী মহিষটির প্রজনন হার বৃদ্ধি পায়। এই প্রক্রিয়ায় মহিষের পালে প্রাকৃতিক প্রজননের মাধ্যমে সংক্রামক রোগের বিস্তার কমানো যায়।

    দাতা স্ত্রী মহিষের ভ্রূণগুলো দূরবর্তী গ্রাম ও শহরের এলাকায় ব্যবহারের জন্য ঠাণ্ডা পরিবেশে সংরক্ষণও করা যায়। একটি জাতের সারা দেশব্যাপী উন্নয়নে এই পদ্ধতি সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু এটি তুলনামূলকভাবে নতুন ও ব্যয়বহুল এবং অতি সম্প্রতি মহিষ এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। হয়ত মহিষ প্রজননে এই পদ্ধতি সুবিধাজনক হিসেবে বিবেচিত হবে।

২.৬ দুধ দোহনের স্বাস্থ্যবিধি

নিরাপদ দুধ উৎপাদন ও ভালো ওলান স্বাস্থ্যের জন্য দুধ দোহনের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রয়োজন। দুধ উৎপাদন কম হওয়ায় সাধারণত বাংলাদেশের খামারিরা দিনে একবার (সকালে) মহিষের দুধ দোহন করে থাকে। মহিষের জন্য এটি একটি দুধ দোহনের আদর্শ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দুধে ব্যাকটেরিয়া নিম্মোক্ত উপায়ে প্রবেশ করতে পারে:

ক. প্রাণী উৎস

  • দুধে প্রাণীর মল ও প্রস্রাব সরাসরি মিশ্রিত হতে পারে
  • ওলান প্রদাহ (ম্যাস্টাইটিস)
  • বিভিন্ন রোগ (যেমন, গরুর যক্ষ্মারোগ)
  • প্রাণীর চামড়ায় যে সকল ব্যাকটেরিয়া বাস করে

খ. পরিবেশগত উৎস

  • পরিবেশ ( যেমন মল, ময়লা ও প্রক্রিয়াকরন যন্ত্রপাতি)
  • পোকামাকড়, ইঁদুর ও অন্যান্য বাহক প্রাণী
  • দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ

গ. মানব উৎস

  • দুধ দোহনের কর্মীদের কাছ থেকে, যেমন তাদের ময়লা হাত, কাপড় বা জুতা

২.৬.১ স্বাস্থ্যসম্মত দুধ দোহনের পূর্বশর্তসমূহ

১. পরিষ্কার করা, ধোয়া ও শুকানো

যখন প্রাণীগুলোকে সাবধানে ঘষে পরিষ্কার ও ধোয়া হয়, তখন ওলান ও দুধের বাঁট যাতে পানিতে ডুবে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদি লেজে বা ওলানে লম্বা লোম থাকে তবে তা কেটে ফেলতে হবে। ধোঁয়ার পর পর যত দ্রুত সম্ভব ওলান ও দুধের বাঁট শুকিয়ে ফেলতে হবে। শুকানোর জন্য একটি তোয়ালে ব্যবহার করা যেতে পারে। খামারের প্রত্যেক মহিষের জন্য আলাদা আলাদা তোয়ালে ব্যবহার করা ভালো।

২. প্রস্তুতি

সকল মহিষকে প্রতিদিন একই সাথে ও একই পদ্ধতিতে দুধ দোয়াতে হবে। নির্দিষ্ট মহিষের জন্য প্রতিদিন একই দুধ দোহনকারীর দুধ দোহন করা উচিত। দুধ দোহনের সময়ের, পদ্ধতির ও দুধ দোহনকারীর আকস্মিক পরিবর্তন ওলান প্রদাহের ঝুঁকি হিসেবে কাজ করে।  দুধ দোহনকারী অবশ্যই একটি পরিষ্কার জামা ও পরিবর্তনীয় গ্লোভস পরবে এবং তাদের নখ ছোট থাকতে হবে। গ্লোভস প্রতিদিন পরিবর্তন করা না গেলে প্রতিবার দুধ দোহানোর পর অ্যালকোহল ব্যবহার করতে হবে। দুধ দোহনকারী কখনও মহিষকে শারীরিকভাবে আঘাত করবে না (যেমন মারধোর করা ও অন্য কোন ভাবে মহিষকে অস্থির করে তোলা)।

৩. দুধ দোয়ানোর সময় খাওয়ানো

দুধ বৃদ্ধির জন্য দোয়ানোর সময় মহিষকে দানাদার খাদ্য দেয়া উচিত। দুধ দোয়ানোর পর মহিষ যাতে কমপক্ষে ৩০ মিনিট (আদর্শ সময় ১ ঘণ্টা) দাঁড়িয়ে থাকে এ জন্য সবুজ ঘাস দিতে হবে। এই পদ্ধতিতে বাঁটের মুখ বন্ধ হওয়ার সময় পায়, ফলে ওলান প্রদাহের সম্ভাবনা কমে যায়।

৪. দুধ রাখার পাত্র

জীবাণুমুক্ত করে আদর্শ দুধের পাত্রে যথাসম্ভব ঠাণ্ডা অবস্থায় দুধ প্রাথমিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। সহজে পরিষ্কার করার জন্য প্লাস্টিকের পাত্রের বদলে অ্যালুমিনিয়াম বা স্টেইনলেস স্টীলের পাত্র ব্যবহার করা উচিত। দুধ দোয়ানো ও খালি করার পর সাথে সাথে দুধের পাত্র পরিষ্কার করতে হবে। প্রথমে ঠাণ্ডা পানিতে ধোয়ার পর ডিটারজেন্ট ও গরম পানি দিয়ে ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরে আবার ঠাণ্ডা পানিতে পরিষ্কার করে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় শুকাতে হবে। ময়লা যাতে প্রবেশ করতে না পারে এজন্য পাত্রগুলো ঢাকনা দিয়ে ঢাকার আগ পর্যন্ত উপুড় করে রাখতে হবে।

ছবি ২.৮: দুধের পাত্র

২.৬.১ স্বাস্থ্যসম্মত দুধ দোহনের ধাপসমূহ

১. দুধ দোহনকারীর প্রস্তুতি:

হাত ধোয়া ও শুকানোর পর দুধ দোহনকারীর অবশ্যই একটি পরিষ্কার জামা ও এক জোড়া নতুন, জীবাণুমুক্ত গ্লোভস পড়তে হবে। একবার ব্যবহার করে ফেলে দেয়া হয় এমন গ্লোভস স্বাস্থ্যসম্মত দুধ দোহনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী কিন্তু খামারিরা বার বার ব্যবহারযোগ্য গ্লোভসও পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রাণীর জন্য আলাদা গ্লোভস ব্যবহার করতে হবে এবং দুধ দোয়ানোর পর গ্লোভস ধুয়ে রাখতে হবে।

২. ফোর স্ট্রিপিং (দুধ দোহনের আগ মুহূর্তে বাঁট টানা):

দুধ দোহনের আগ মুহূর্তে বাঁট কয়েকবার টেনে দুধের রঙ ও ঘনত্ব পরিবর্তন হয়েছে কিনা দেখা উচিত। এছাড়া এর মাধ্যমে বাঁটের মধ্যকার ময়লাও পরিষ্কার হয়ে যায়।

৩. ওলান ও দুধের বাঁট পরিষ্কার করা:

ভেজা কাপড় দিয়ে (একটি প্রাণীর জন্য একটি ) ওলান ও দুধের বাঁট পরিষ্কার করতে হবে যাতে মহিষের পেছনের ওলানে যাতে কোন ময়লা না থাকে।

৪. প্রি-ডিপিং ( দুধ দোহনের আগে বাঁট চুবানো):

দুধ দোহনের আগে দুধের বাঁট কম ঘনত্বের জীবাণুনাশকে (যেমন, ০.১% আয়োডোফোর, কম ঘনত্বের ক্লোরহেক্সিডিন, ল্যাকটিক এসিড ও ক্লোরিন ডাইঅক্সাইড) চুবানো উচিত যাতে দূষণ না ঘটে।

৫. শুকানো:

কম ঘনত্বের জীবাণুনাশকে বাঁট চুবানোর পর বাঁটগুলো পরিষ্কার তোয়ালে, কাপড় বা কাগজের তোয়ালে দিয়ে মুছে নিতে হবে। প্রত্যেক প্রাণীর জন্য আলাদা আলাদা তোয়ালে বা কাপড় ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। বাঁট মোছার পর কাপড় বা তোয়ালে গরম পানিতে ধুয়ে ফেলা উচিত।

৬. উদ্দীপনা দেয়া:

ওলানকে স্পর্শ করে বা ম্যাসাজ করার মাধ্যমে দুধ দোহনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা যায়। ধোয়া ও শুকানোর মাধ্যমেও দুধ দোহানোকেসহজ করা যায়। বাছুরের উপস্থিতি ও বাঁট চোষা দুধ দোয়ানোর সময় কাজে লাগে।

৭. দুধ দোহন: দুই পদ্ধতিতে দুধ দোহন করাযায়- হাতে ও মেশিনের মাধ্যমে। দুই পদ্ধতিই ‘দুধ দোহনের পদ্ধতি‘ অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

৮. পোস্ট-ডিপিং ( দুধ দোহনের পরে বাঁট চুবানো)

দুধ দোহনের পর বাঁটগুলোকে আবারো জীবাণুনাশকে চুবানো উচিত। এটি বাঁটের চামড়ার উপরের জীবাণু দূর করে বাঁটকে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত হতে সাহায্য করে। এ সময় বাঁটে যে জীবাণুনাশক লেগে থাকে তা কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে মুছে বা শুকিয়ে ফেলা উচিত নয়।

২.৬.৩ দুধ দোহনের পদ্ধতি

সারা বিশ্বে মহিষের দুধ দোহনের দুইটি পদ্ধতি রয়েছে।

১. হাত দিয়ে দুধ দোহন

২. মেশিনের সাহায্যে দুধ দোহন

২.৬.৩.১ হাত দিয়ে দুধ দোহন

দুধ দোহনকারী হাত দিয়ে দুধ দোহন করে থাকে। বাম/ডান বা সামনে/পিছনে জোড়া বাঁটে দুধ দোহন শুরু করা হয়। বাঁট টানার বদলে চেপে দুধ দোহন করা উচিত যাতে টানার ফলে বাঁট কেটে যাওয়া বা বাঁটের কোষ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ছবি ২.৯: হাতে দুধ দোহন পদ্ধতি (ছবি- ওয়েব)

হাতে দুধ দোয়ানো চার ধরনের হয়ে থাকে।

ক. পুরো হাত দিয়ে দুধ দোহন: এটি হাত দিয়ে দুধ দোহনের আদর্শ পদ্ধতি। এ ক্ষেত্রে হাতের তালু ও নিচের তিন আঙুল দিয়ে বাঁটকে চাপ দেয়া হয় এবং বাঁটের গোড়া বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে ধরে রাখা হয়।

 

ছবি ২.১০: পুরো হাত দিয়ে দুধ দোহন

খ. দুই আঙ্গুলে দুধ দোহন: এটি স্ট্রিপিং নামেও পরিচিত এবং ছোট বাঁটের মহিষের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়। প্রথম বাচ্চা দেয়ার মহিষের ছোট বাঁট থাকে, সে ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি সুবিধাজনক।

বি ২.১১: দুই আঙ্গুলে দুধ দোহন (ছবি- ওয়েব)

গ. আঙ্গুলের গাঁট দিয়ে দুধ দোহন/ হাত মুঠো করে দুধ দোহন: বৃদ্ধাঙ্গুলির ডগা দিয়ে বাঁটকে চেপে ধরা হয় এবং অন্য আঙ্গুলগুলো বাঁটকে ধরে রাখে। বাঁটে আঘাত লাগা সত্ত্বেও কিছু খামারি এ পদ্ধতিতে দুধ দোহন করে থাকে।

ঘ. দুই আঙ্গুলে দুধ দোহনের পর আবার পুরো হাত দিয়ে দুধ দোয়ানো: দুই আঙ্গুলে দুধ দোহনের পর বাঁটকে সব আঙুল দিয়ে চেপে ধরা হয় এবং হাতের তালুতে চাপ দিয়ে দুধ দোহন হয়।

 

২.৬.৩.২  মেশিনে দুধ দোহন

উন্নত দেশগুলোতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেশিনে দুধ দোহন হয়। দুধের বাঁটে কাপ লাগানো হয় এবং এই কাপ স্বাভাবিক বায়ুর চাপ ও বায়ুশূন্য অবস্থা ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন করে দুধ বের করে নিয়ে আসে। দুধকে ছেঁকে ও ঠাণ্ডা করার পর বড় দুধের পাত্রে সংরক্ষনের জন্য রাখা হয়।

 

ছবি ২.১২: মেশিনে দুধ দোহন

মেশিনে দুধ দোহনে কম সময় লাগে, সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে দুধ কম দুষিত হয়। বাংলাদেশে মহিষের দুধ দোহনে মেশিন ব্যবহৃত হয় না। তিন ধরনের মেশিন মহিষের খামারে ব্যবহৃত হয়। সেগুলো হল-

ক. বহনযোগ্য দুধ দোহনের মেশিন: একটি বহনযোগ্য দুধ দোহনের মেশিনে ব্যাটারী ও মোটর থাকে যা সহজে খামারের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বহন করা যায়।

খ. খামারের স্থায়ী দুধ দোহনের মেশিন: এ ক্ষেত্রে মেশিন খামারের বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে চলে। তারের লাইন যতটুকু থাকে ততটুকু পর্যন্ত মেশিন ব্যবহার করা যায়।

গ. মিল্কিং পার্লার: বড় আকারের সুসংঘটিত বাণিজ্যিক খামারে মিল্কিং পার্লার ব্যবহার করা হয়। প্রাণীগুলো পার্লারে প্রবেশ করে এবং স্বয়ংক্রিয় মেশিনে দুধ দোহন করা হয়।

 

ছবি ২.১৩: বহনযোগ্য দুধ দোহনের মেশিন

References

  1. S. P. Sahu, "housing and rearing systems for cattle and buffaloes," 2017. [Online]. Available: https://basu.org.in/wp-content/uploads/2020/10/LPM-601_Housing_and_Rearing_Systems_for_cattle_and_buffaloes.pdf
  2. ICAR, "Buffalo Housing," Indian Council of Agricultural Research, 2019. [Online]. Available: https://buffalopedianew.cirb.res.in/buffalo-housing/
  3. F. Napolitano, C. Pacelli, F. Grasso, A. Braghieri and G. De Rosa, "The behaviour and welfare of buffaloes (Bubalus bubalis) in modern dairy enterprises," Animal, vol. 7, no. 10, pp. 1704-1713, 2013.
  4. C. Bhakat, "Wallowing in Buffalo and summer management," 2012. [Online]. Available: https://osf.io/preprints/indiarxiv/juctz/download
  5. B. Lemcke, The Australian Water Buffalo Manual, Department of Primary Industry and Resources, 2017.
  6. G. N. Purohit and T. K. S. Rao, "Estrus Detection in Buffaloes," Bubaline Theriogenology, 2018.

M. A. Zava and M. Sansinena, "Buffalo Dairy Production: A Review," in The Buffalo (Bubalus bubalis) - Production and Research, Bentham Science Publishers, 2017, pp. 225-261.